কলকাতা
খেলছে নরমুণ্ড নিয়ে দুটো দল, ফুটবল
মারছে ফ্রিকিক করনার কিক বাইসিকেল কিক
নৃমুণ্ড হাসছে চেঁচিয়ে নেচে ওপরে হাওয়ায় ভেসে
কামড়ে ধরছে টুঁটি, ছিঁড়ে ফেলছে কন্ঠনালী
মাঝমাঠে দুই দল ল্যাংটো খেলোয়াড়দের --
যতক্ষণ খেলা চলল এক-এক করে
সবকটা খেলোয়াড় ঘাসেতে লুটিয়ে পড়ল আর
মাঝমাঠে গিয়ে বাউন্স খেয়ে-খেয়ে
অট্টহাসি হাসতে লাগল মানুষের কাটা মুণ্ডুখানা
মারছে ফ্রিকিক করনার কিক বাইসিকেল কিক
নৃমুণ্ড হাসছে চেঁচিয়ে নেচে ওপরে হাওয়ায় ভেসে
কামড়ে ধরছে টুঁটি, ছিঁড়ে ফেলছে কন্ঠনালী
মাঝমাঠে দুই দল ল্যাংটো খেলোয়াড়দের --
যতক্ষণ খেলা চলল এক-এক করে
সবকটা খেলোয়াড় ঘাসেতে লুটিয়ে পড়ল আর
মাঝমাঠে গিয়ে বাউন্স খেয়ে-খেয়ে
অট্টহাসি হাসতে লাগল মানুষের কাটা মুণ্ডুখানা
চে গ্বেভারা
বলুন তো চে গ্বেভারা
চাষির সুপক্ক ধান
তাও এক প্রান্তিক চাষির
মাঝরাতে কেটে নিলে কারা
কপালে ব্যাণ্ডেনা-বাঁধা কোন বিপ্লবীরা
টি-শার্টে আপনার সেই বিখ্যাত ছবি !
চাষির সুপক্ক ধান
তাও এক প্রান্তিক চাষির
মাঝরাতে কেটে নিলে কারা
কপালে ব্যাণ্ডেনা-বাঁধা কোন বিপ্লবীরা
টি-শার্টে আপনার সেই বিখ্যাত ছবি !
স্যানিটারি ন্যাপকিন
ভালোবাসা ওই মেয়েটির মতো যার
স্কুল যাওয়া বন্ধ হয়ে গেল ; মাসে
সাড়ে তিন দিন কাপড়ে শুকনো ঘাস
বেঁধে, পরে থাকতে হবে ; বর্ষায়
ঘাস তো সবুজ, তখন কাপড়ে ছাই
মুড়ে, রক্ত শুষে রাখবার তরকিবে
চুপচাপ বইহীন একা বসে থাকা ।
স্কুল যাওয়া বন্ধ হয়ে গেল ; মাসে
সাড়ে তিন দিন কাপড়ে শুকনো ঘাস
বেঁধে, পরে থাকতে হবে ; বর্ষায়
ঘাস তো সবুজ, তখন কাপড়ে ছাই
মুড়ে, রক্ত শুষে রাখবার তরকিবে
চুপচাপ বইহীন একা বসে থাকা ।
পিঠচুলকানি
মহিলা আলোচক বলেছেন, 'পিঠচুলকানি' --
পড়ে, কী বলব, ওনার পিঠটা দেখতে পেলুম,
ওনাকে তো দেখিনি কখনও । উনি কি আমার মায়ের মতন ফর্সা ?
মেজজ্যাঠাইমার মতো যাকে বলে উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ ? হলেই বা কালো !
ওনার পিঠে ডান দিকে লাল রঙের আঁচিল আছে ? মায়ের ছিল ।
বড্ডো দেখতে ইচ্ছে করছে আলোচকদিদির পিঠ ; শিরদাঁড়ার দুদিকে
মাংসের ঢেউ নেমে চলে গেছে সামনের দিকে যেদিকটায়
হাত এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্যে চুরি করতেই অবন্তিকা বলেছিল
'ওখানটায় তো চুলকোতে বলিনি, মাঝখানে, যেখানে হাত পৌঁছোচ্ছে না
সেখানে' । কিন্তু চুলকোনো ছাড়াও তো হাতের কাজ আছে !
পিঠের ওপরই যদি একটা প্রেমের কবিতা লিখতে শুরু করি
তা কি এগিয়ে যাবে না অন্তমিলের দিকে ? তুই তো আমার মা নোস--
কবিতার আলোচকও নোস যে তাঁর খোলা পিঠে হাত দিয়ে বলব
'ওগো, দাও না, একটু চুলকে দিই তোমার পিঠটা,
মায়ের জন্যে আজকাল বড্ডো মনকেমন করে।'
পড়ে, কী বলব, ওনার পিঠটা দেখতে পেলুম,
ওনাকে তো দেখিনি কখনও । উনি কি আমার মায়ের মতন ফর্সা ?
মেজজ্যাঠাইমার মতো যাকে বলে উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ ? হলেই বা কালো !
ওনার পিঠে ডান দিকে লাল রঙের আঁচিল আছে ? মায়ের ছিল ।
বড্ডো দেখতে ইচ্ছে করছে আলোচকদিদির পিঠ ; শিরদাঁড়ার দুদিকে
মাংসের ঢেউ নেমে চলে গেছে সামনের দিকে যেদিকটায়
হাত এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্যে চুরি করতেই অবন্তিকা বলেছিল
'ওখানটায় তো চুলকোতে বলিনি, মাঝখানে, যেখানে হাত পৌঁছোচ্ছে না
সেখানে' । কিন্তু চুলকোনো ছাড়াও তো হাতের কাজ আছে !
পিঠের ওপরই যদি একটা প্রেমের কবিতা লিখতে শুরু করি
তা কি এগিয়ে যাবে না অন্তমিলের দিকে ? তুই তো আমার মা নোস--
কবিতার আলোচকও নোস যে তাঁর খোলা পিঠে হাত দিয়ে বলব
'ওগো, দাও না, একটু চুলকে দিই তোমার পিঠটা,
মায়ের জন্যে আজকাল বড্ডো মনকেমন করে।'
মধ্যবিত্ত কবি
আধুনিকতাবাদী কবিটি
বিষাদে ভুগতে হবে বলে ধুঁকছেন
মহানগরের ঘেয়ো কুকুরের মাছি
পুঁজ চেটে উড়ছেন
বিস্বাদ বিস্বাদ
অতিশয়োক্তি নোংরা বোবাও পারে
খণ্ডবাদের ক্লিন্ন স্মারক জীবটি
বিষাদে ভুগতে হবে বলে ধুঁকছেন
মহানগরের ঘেয়ো কুকুরের মাছি
পুঁজ চেটে উড়ছেন
বিস্বাদ বিস্বাদ
অতিশয়োক্তি নোংরা বোবাও পারে
খণ্ডবাদের ক্লিন্ন স্মারক জীবটি
আমার ঠাকুমাকে যেন বলবেন না
আপনি কেন পছন্দ করছেন, নীরা ?
আমি আজো শুঁয়োপোকা-ঠাশা ঈশান মেঘে চিৎসাঁতার দিই
উনি পঞ্চাশ বছর আগে আমার কবিতা চাননি
আপনি কেন চাইছেন, নীরা ?
আমি আজো জলের দশপা গভীরে বরফের লাঠি চালাই
উনি আমার সাবজুডিস মামলায় সম্পাদকীয় লিখেছিলেন
আপনি সম্পাদক হয়ে কেন লেখা চাইছেন, নীরা ?
আমি আজো স্মোকড পেংগুইনের চর্বির পরোটা খেতে ভালোবাসি
উনি আমার কবিতার বইয়ের প্রকাশক হয়েও স্বীকার করেননি
আপনি কেন স্বীকৃতি দিচ্ছেন, নীরা ?
আমি আজো দুপুর-গেরস্হের হাঁমুখে সেঁদিয়ে ফ্যামিলিপ্যাক হাই তুলি
উনি আমার নাম উচ্চারণ করতে চাইতেন না
আপনি কেন তরুণদের কাছে করছেন, নীরা ?
আমি আজো রক্তঘোলা জলে টাইগার শার্কদের সঙ্গে বলিউডি নাচে গান গাই
উনি বলেছিলেন ওর মধ্যে সত্যিকারের লেখকের কোনো ব্যাপার নেই
আপনি কেন মনে করছেন আছে, নীরা ?
আমি ইমলিতলায় জানতুম কাঠকয়লা ছাড়া ইঁদুরপোড়ার স্বাদ হয় না
উনি বলেছিলেন ওর কোনো ক্রিয়েটিভ দিক নেই
আপনি কেন মনে করছেন আছে, নীরা ?
আমি অন্তত পাঁচ হাজার কোটি টাকার ব্যাঙ্কনোট পুড়িয়ে মড়ার গন্ধ পেতুম
উনি বলেছিলেন ওর দ্বারা কোনোদিন কবিতা লেখা হবে না
আপনি কেন মনে করছেন হয়েছে, নীরা ?
আমি অ্যামস্টারডামের খালপাড়ে হাঁ-করা বুড়োদের লিরিক শুনেছি
উনি সেসময়ে দুঃখ থেকে রাগ আর রাগ থেকে বিতৃষ্ণায় উঠেছেন
আপনি এতো উদার কেন, নীরা ?
আমার ঠাকুমাকে যেন প্লিজ বলবেন না ।
( 'কৃত্তিবাস' পত্রিকা ২০১৪ সালে একটি কবিতা চেয়েছিল । এই কবিতাটি পাবার পর পত্রিকা কর্তৃপক্ষের হৃৎকম্প আরম্ভ হয় এবং তাঁরা কবিতাটি ছাপতে রাজি হননি । )
কমেডি হল ট্র্যাজেডির পরগাছা
লিখেছিলেন, 'টিকবে না, টিকবে না,' প্রথম পাতায় !
উনি ? হ্যাঁ, বোধহয় মোগাম্বো ওনার নাম ।
তারপরে ১৯৬২, ১৯৬৩, ১৯৬৪, ১৯৬৫, ১৯৬৬
কে যেন সেই বেঁটেখাটো লোকটা লিখেছিল দৈনিকে
'ওঃ, ও আর কতোদিন, টিকবে না, টিকবে না,' সাহিত্য বিভাগে
কী যেন কী ছিল নাম, আরে সেই যে, সপ্ল্যানেডে, বুকস্টলে,
মনে পড়ছে না ? কোথায় গেলেন উনি, সেই যে !
গাবদাগতর এক লিটল ম্যাগাজিনে লিখলেন--
উনি ? হ্যাঁ, বোধহয় ডক্টর ডাঙ ওনার নাম ।
তারপরে ১৯৬৭, ১৯৬৮, ১৯৬৯, ১৯৭০, ১৯৭১, ১৯৭২
মনে আসছে না ? চোখে চশমা ? হন হন পাশ কাটিয়ে--
উনি ? হ্যাঁ, বোধহয় গব্বর সিং ওনার নাম ।
কেন যা পারোনি রাখতে মনে করে ওনাদের পিতৃদত্ত নাম ।
পঞ্চাশ বছরেই ভুলে গেলে ? গেলেন কোথায় ওঁরা !
আরে সেই যে সেই ঢোলা প্যান্ট চাককাটা বুশশার্ট ?
লিখলেন অতো করে, 'টিকবে না, টিকবে না।'
তারপরে ১৯৭৩, ১৯৭৪, ১৯৭৫, ১৯৭৬, ১৯৭৭, ১৯৭৮, ১৯৭৯
১৯৮০, ১৯৮১, ১৯৮২, ১৯৮৩, ১৯৮৪, ১৯৮৫
১৯৮৬, ১৯৮৭, ১৯৮৮, ১৯৮৯, ১৯৯০, ১৯৯১, ১৯৯২
১৯৯৩, ১৯৯৪, ১৯৯৫, ১৯৯৬, ১৯৯৭, ১৯৯৮, ১৯৯৯
২০০০, ২০০১, ২০০২, ২০০৩, ২০০৪, ২০০৫, ২০০৬, ২০০৭
২০০৮, ২০০৯, ২০১০, ২০১১, ২০১২, ২০১৩, ২০১৪, ২০১৫
কী ? মনে পড়ল না এখনও ! অদ্ভুত লোক তো তুমি !
অতগুলো লেখক সম্পাদক কবি পই পই করে
লিখে গেল, 'টিকবে না, টিকবে না, বেশিদিন টিকবে না
শিগগিরই ভুলে যাবে লোকে ।' অথচ তাদেরই নাম
মনে আনতে এত হিমশিম ? তবে তাই হোক ।
মোগাম্বো ডক্টর ডাঙ ও গব্বর সিংহ নামে
বাঙালির ইতিহাসে ওনাদের তুলে রেখে দিই ।
নেই কিন্তু ছিল
আর সামনে দিকে লম্বা পাড় লাল নীল হলুদ সবুজ যে রঙ চাই
লিঙ্গকে বেকাবু হওয়া থেকে বাঁচাবার জন্য
লম্বাআআআআ খোলের ভেতর ভাঁজ-ভাঁজ টাকা
টাকাগুলো ঠেশে কুঁচকির মাঝে
যাতে অন্য লোকেরা মনে করে
উরিব্বাপ কোন পাড়ার চাঁদু
কী সাইজ রে
আসলে নেই -- লিঙ্গই নেই লোকটার কিন্তু সিনেমার লাইনে
মারামারি করতে হবে আলিয়া ভাটকে পর্দায় পেতে
গায়ে সর্ষের তেলে মেখে ভিড়ে সেঁদিয়ে যাবার পেছল--
দাদা এটা আলিয়া ভাটের ফিল্ম নয় -- কারিনা কাপুরের --
তো কী হয়েছে, যাঁহা আলিয়া তাঁহা কারিনা, তারা তো পর্দায়--
আসলে তো ল্যাঙোটে রয়েছে ডোডোপাখি
ভয় পেতে হলে ডায়নোসর, লম্বাআআআআ গলা
ঠেকাবেন কি করে ? কী আর করা যাবে বলুন !
ফসিল তো আছে । লাল ল্যাঙোটের জীবাশ্ম !
অবন্তিকা, তোর ওই মহেঞ্জোদারোর লিপি উদ্ধার
কী গণিত কী গণিত মাথা ঝাঁঝা করে তোকে দেখে
ঝুঁকে আছিস টেবিলের ওপরে আলফা গামা পাই ফাই
কস থিটা জেড মাইনাস এক্স ইনটু আর কিছু নাই
অনন্তে রয়েছে বটে ধূমকেতুর জলে তোর আলোময় মুখ
প্রতিবিম্ব ঠিকরে এসে ঝরে যাচ্ছে রকেটের ফুলঝুরি জ্বেলে
কী জ্যামিতি কী জ্যামিতি ওরে ওরে ইউক্লিডিনি কবি
নিঃশ্বাসের ভাপ দিয়ে লিখছিস মঙ্গল থেকে অমঙ্গল
মোটেই আলাদা নয় কী রে বাবা ত্রিকোণমিতির জটিলতা
মারো গুলি প্রেম-ফেম, নাঃ, ফেমকে গুলি নয়, ওটার জন্যই
ঘামের ফসফরাস ওড়াচ্ছিস ব্রহ্মাণ্ড নিখিলে গুণ ভাগ যোগ
আর নিশ্ছিদ্র বিয়োগে প্রবলেম বলে কিছু নেই সবই সমাধান
জাস্ট তুমি পিক আপ করে নাও কোন প্রবলেমটাকে
সবচেয়ে কঠিন আর সমস্যাতীত বলে মনে হয়, ব্যাস
ঝুঁকে পড়ো খোলা চুল লিপ্সটিকহীন হাসি কপালেতে ভাঁজ
গ্যাজেটের গর্ভ চিরে তুলে নিবি হরপ্পা-সিলের সেই বার্তাখানা
হাজার বছর আগে তোর সে-পুরুষ প্রেমপত্র লিখে রেখে গেছে
মহেঞ্জোদারোর লিপি দিয়ে; এখন উদ্ধার তোকে করতে হবেই
অবন্তিকা, পড় পড়, পড়ে বল ঠিক কী লিখেছিলুম তোকে--
অমরত্ব অমরত্ব ! অবন্তিকা, বাদবাকি সবকিছু ভুলে গিয়ে
আমার চিঠির বার্তা তাড়াতাড়ি উদ্ধার করে তুই আমাকে জানাস
ঝুঁকে আছিস টেবিলের ওপরে আলফা গামা পাই ফাই
কস থিটা জেড মাইনাস এক্স ইনটু আর কিছু নাই
অনন্তে রয়েছে বটে ধূমকেতুর জলে তোর আলোময় মুখ
প্রতিবিম্ব ঠিকরে এসে ঝরে যাচ্ছে রকেটের ফুলঝুরি জ্বেলে
কী জ্যামিতি কী জ্যামিতি ওরে ওরে ইউক্লিডিনি কবি
নিঃশ্বাসের ভাপ দিয়ে লিখছিস মঙ্গল থেকে অমঙ্গল
মোটেই আলাদা নয় কী রে বাবা ত্রিকোণমিতির জটিলতা
মারো গুলি প্রেম-ফেম, নাঃ, ফেমকে গুলি নয়, ওটার জন্যই
ঘামের ফসফরাস ওড়াচ্ছিস ব্রহ্মাণ্ড নিখিলে গুণ ভাগ যোগ
আর নিশ্ছিদ্র বিয়োগে প্রবলেম বলে কিছু নেই সবই সমাধান
জাস্ট তুমি পিক আপ করে নাও কোন প্রবলেমটাকে
সবচেয়ে কঠিন আর সমস্যাতীত বলে মনে হয়, ব্যাস
ঝুঁকে পড়ো খোলা চুল লিপ্সটিকহীন হাসি কপালেতে ভাঁজ
গ্যাজেটের গর্ভ চিরে তুলে নিবি হরপ্পা-সিলের সেই বার্তাখানা
হাজার বছর আগে তোর সে-পুরুষ প্রেমপত্র লিখে রেখে গেছে
মহেঞ্জোদারোর লিপি দিয়ে; এখন উদ্ধার তোকে করতে হবেই
অবন্তিকা, পড় পড়, পড়ে বল ঠিক কী লিখেছিলুম তোকে--
অমরত্ব অমরত্ব ! অবন্তিকা, বাদবাকি সবকিছু ভুলে গিয়ে
আমার চিঠির বার্তা তাড়াতাড়ি উদ্ধার করে তুই আমাকে জানাস
আমার স্বদেশ
আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয় যে আদিবাড়ি উত্তরপাড়া আমার দেশ নয়
জানি গঙ্গায় অপরিচিতদের চোখ খুবলানো লাশ ভেসে আসে
আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয় যে পিসিমার আহিরিটোলা আমার দেশ নয়
জানি পাশেই সোনাগাছি পাড়ায় প্রতিদিন তুলে আনা কিশোরিদের বেঁধে রাখা হয়
আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয় যে মামার বাড়ি পাণিহাটি আমার দেশ নয়
জানি কোন পাড়ায় দিনদুপুরে কাদের খুন করা হয়েছে
আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয় যে শৈশবের কোন্নগর আমার দেশ নয়
জানি কারা কাদের দিয়ে কাকে গলা কেটে মারতে পাঠায়
আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয় যে যৌবনের কলকাতা আমার দেশ নয়
জানি কারা কাদের বোমা মারে বাসে-ট্রামে আগুন লাগায়
আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয় যে পশ্চিমবঙ্গ আমার দেশ নয়
এদেশের লকআপে পিটুনি খেয়ে থেঁতলে মরার অধিকার আমার আছে
এদেশের চা-বাগানে না খেতে পেয়ে দড়িদঙ্কা হবার অধিকার আমার আছে
এদেশের চটকলে গলায় দড়ি দিয়ে ঝোলার অধিকার আমার আছে
এদেশের দলগুণ্ডাদের পোঁতা মাটির তলায় হাড় হবার অধিকার আমার আছে
এদেশের ধনীদের ফাঁদে ফেঁসে সর্বস্বান্ত হবার অধিকার আমার আছে
এদেশের শাসকদের বাঁধা লিউকোপ্লাস্ট মুখে বোবা থাকার অধিকার আমার আছে
এদেশের নেতাদের ফোঁপরা বক্তৃতা আর গালমন্দ শোনার অধিকার আমার আছে
এদেশের অবরোধকারীদের আটকানো পথে হার্টফেল করার অধিকার আমার আছে
আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয় যে বাংলাভাষা আমার স্বদেশ নয়
জানি গঙ্গায় অপরিচিতদের চোখ খুবলানো লাশ ভেসে আসে
আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয় যে পিসিমার আহিরিটোলা আমার দেশ নয়
জানি পাশেই সোনাগাছি পাড়ায় প্রতিদিন তুলে আনা কিশোরিদের বেঁধে রাখা হয়
আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয় যে মামার বাড়ি পাণিহাটি আমার দেশ নয়
জানি কোন পাড়ায় দিনদুপুরে কাদের খুন করা হয়েছে
আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয় যে শৈশবের কোন্নগর আমার দেশ নয়
জানি কারা কাদের দিয়ে কাকে গলা কেটে মারতে পাঠায়
আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয় যে যৌবনের কলকাতা আমার দেশ নয়
জানি কারা কাদের বোমা মারে বাসে-ট্রামে আগুন লাগায়
আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয় যে পশ্চিমবঙ্গ আমার দেশ নয়
এদেশের লকআপে পিটুনি খেয়ে থেঁতলে মরার অধিকার আমার আছে
এদেশের চা-বাগানে না খেতে পেয়ে দড়িদঙ্কা হবার অধিকার আমার আছে
এদেশের চটকলে গলায় দড়ি দিয়ে ঝোলার অধিকার আমার আছে
এদেশের দলগুণ্ডাদের পোঁতা মাটির তলায় হাড় হবার অধিকার আমার আছে
এদেশের ধনীদের ফাঁদে ফেঁসে সর্বস্বান্ত হবার অধিকার আমার আছে
এদেশের শাসকদের বাঁধা লিউকোপ্লাস্ট মুখে বোবা থাকার অধিকার আমার আছে
এদেশের নেতাদের ফোঁপরা বক্তৃতা আর গালমন্দ শোনার অধিকার আমার আছে
এদেশের অবরোধকারীদের আটকানো পথে হার্টফেল করার অধিকার আমার আছে
আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয় যে বাংলাভাষা আমার স্বদেশ নয়