অনুসন্ধান..

সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

রাসেল শাহরিয়ারের দুইটি কবিতা

শিশুপাঠ্য

ব্যাঙাচির জীবনচক্রের মতো শিশুপাঠ্য জলমগ্ন দিনে -
ডোবা-পুকুর-নদী-সমুদ্র অথবা হাঁড়িতে ফোটানো
জলজ জ্বলন্ত আত্মা থেকে বাস্পভুত হয়ে
জগতময় পরিভ্রমণ শেষে -
মেঘেরাও একটি নির্দিষ্ট জীবনচক্র সম্পন্ন করে ।  

আমাদের পাখি পোষার মেঘলা যুগে -
'খাঁচায় পুষতে চাই সুন্দরের সকল ধারণা । কিংবা,
পাখির ডানায় উড়ুক মুক্ত প্রাণের স্লোগান ।'
এ বাক্য দুইয়ের ভেতরকার যে দ্বন্দ্ব -
সেখানে দুলতে দুলতে স্কুল পালিয়ে কি যে আনন্দ পেয়েছি ;
আজও নীতি গ্রন্থের কাছে গেলে সেসব ভাবি ।

স্কুল পালিয়ে, ক্রমশ বাস্পভুত হয়ে, ব্যাঙাচির জীবনচক্র দেখতে দেখতে,
পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতার চিন্তার শৃঙ্খল খাঁচায়, অথবা
বালিকা বিদ্যালয়ের কাছে আমরা বৃষ্টির মতো ঝ'রে পড়তাম ;

মুষল ধারে ।


মেঘলা দিনের প্রসঙ্গ


জমিছে মেদুর মেঘমালা । দুই তিন অথবা আরও বেশি দিন ধরে
দক্ষিণের বিনম্র ঝাঁঝালো বাতাস জালের মতো টেনে টেনে আনছে মেঘ ।
সারাদিন প্রচণ্ড ভ্যাপসা গরম, বাতাসও বন্ধ ; তাপে তাপে জলকণা--জলীয়বাষ্প
প্রসারিত - দীর্ঘ - দীর্ঘশ্বাস - সীমাহীন, অসীম ।

স্টেশনের ধুলোবতী পাগলের মাথার মতন এই ধুলোময় গোলকের জালে আছে যে যার তাপে ।
স্টেশন, লোকালয় ; রেলগেট পেরিয়ে তির্যক বালিকাদের চোখ - মেঘলা মহুয়া - আগুন আগুন - কৃষ্ণচূড়ায় ;
মায়েদের মুখে টেনে দেওয়া আতঙ্কের আঁচল ।

সিঁড়িপথে মাকড়সা বুনছে জাল,
বুনে যাচ্ছে ক্রমশ - মেঘে মেঘে - বৃষ্টির সম্ভাবনায় - আটকে পড়া পতঙ্গে - আহার্য ;
আহা, জীবন-যাপন ।

দুই তিন অথবা আরও বেশি দিন ধরে যারা বসে আছে পৃথিবীর তাপে তাপে,
ট্রেনে ঝাকুনির গতিময় দূরে - শেষরাতে বৃষ্টির অপেক্ষায় ; যারা জেনেছে ,
ঝড়-বৃষ্টি কিম্বা সে সব প্লাবনের গল্প -- নূহের নৌকা -- জোড়ায় জোড়ায় প্রাণীসকল -- প্লাবন প্লাবন ;
প্লাবনের শেষে ছড়িয়ে ছিটিয়ে জগতময় সিঁড়িপথে মাকড়সার জালে পতঙ্গের আজন্ম আতঙ্কে...

এমন এক মাকড়সার জালের ছবি আঁকতে আঁকতে আমার সমস্ত আষাঢ়ের দুপুর।