প্রকাশকাল
মাঘ ১৪১৫, ফেব্রুয়ারি ২০০৯
রচনা কাল
মে-আগষ্ট ২০০৮
স্বত্ব
দ্বৈত বনতুলশী
প্রকাশক: পাঠসূত্র
১৫২/২-কে, গ্রিন রোড
পান্থপথ, ঢাকা
প্রচ্ছদ
নাইমুজ্জামান প্রিন্স
দাম
৭০ টাকা
সূচি
আমাকে আবার লাইনে দাঁড় করালে/ দুইটা চাঁদ/ শোনাই তোমাকে আবার কাঁচা পদ্য/ ধারানি শোধানি/ প্রথম আলিঙ্গন/ জানালা কোথায়, এ যে সব মৌমাছি/ শাদাকালো/ আমাকে তছনছ করে/ সকাল না হতেই/ আজকাল প্রায়ই প্রত্যুষে/ পাশাপাশি অনেক গুলি দালান/ তোমার ক্রিকেট পিচে/ কেমন ভেজে রেখেছে ফুল গুলি/ তোমাকে নিয়ে হেটে আসি/ হাতে গোনা কয়েকটা দিন/ ঢাকা শহরে/ ঢাকায় কোন/ আজ একি হলো/ শ্রাবণ চলে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে/ চলো পান করি/ আবার একটা চমক, আগস্টে
ঋণা শামীম আক্তার জাহান কে
তোমার কাছে আমার ঋণ কখনো শোধ হবে না
আমাকে আবার লাইনে দাঁড় করালে
আবার আমাকে হাজির করেছো তোমার সামনে
এক লাইনে দাঁড় করালাম অনেক গুলি আমাকে
অনেক দূর চলে গেছে সেই লম্বা লাইন
তাকিয়ে দেখি কারো বয়স বারো, হাফপ্যান্ট ছেড়ে ফুলপ্যান্ট পরেছে
কেউবা আঠারো, ভিড় করে আছে তার মুখে একা থাকার চরম নির্যাতন
কারো বা ছাব্বিশ -অস্থিরতা , যন্ত্রণার মুখোশ পরা
কেউ তিরিশ – ক্লান্ত, পথহারা, সোনালি মাথায় কালো চুল
তুমি কি ন্যায্যমূল্য? তুমি কি বিকল্প বাজার?
আমার সাধ্যের জোর যখন দুর্বল হয়ে যাচ্ছে
তুমি এলে ত্রাতা হয়ে?
আমাকে আবার লাইনে দাঁড় করালে
আমাকে আবার টেনে নিলে তোমার সাশ্রয়ী দোকানে!
দুইটা চাঁদ
শোনাই তোমাকে আবার কাঁচা পদ্য
তোমার কন্ঠ স্বর অবিকল তোমার মতই নাকি?
নাকি কিছুটা আঞ্চলিক?
বনলতা সেনকেও দেখা যায় নাই
শেও কি ছিল না কিছু কাল্পনিক?
গতকাল তোমাকে কথার আঘাত দিয়েছি
বলেছি খুলে ধরো পুরোটা তোমাকে
আজ তুমি ব্যস্ত থাকবে, ভোটার আইডি কার্ড বানাতে
দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেগে উঠেছে মন
মেতেছে সবাই খুব স্বপ্নে
আমি পড়ে গেছি তোমার কুহকে
টাওয়ার টাওয়ারে সংযোগ খুঁজি
তোমার চুল খুলি খুব যত্নে
থাক আলোচনা পরিচয় নিয়ে
তুমি কি বাঙালি আর আমি বাংলাদেশী
পাশে এসে বসো না গো এলোকেশী
শোনাই তোমাকে আবার কাঁচা পদ্য
হাঁড়িতে যদিও বা দানা টানাটানি
গাও না গান আজ ওগো টুনটুনি
কিছুটা ভুলভাল, কিছুটা পুরানা
আমার হাতে থাক চলেশ রিসিলের মদ্য।
ধারানি শোধানি
কেন তুমি আজ এতো বেশি চুপচাপ
বোরখায় ঢেকে রেখেছো মুখখানি
পাড়ার সবাই দিয়েছে কি অভিশাপ
হাতে কি হারাম হালালের তালিকাটা।
টাওয়ারে টাওয়ারে রচিছে ভবিষ্যত?
তোমার কোনো ধারানি শোধানি নাই।
তুমি এক নাও, আমারও ছোট্ট তরী
এই কাল বৈশাখে পাল তুলে দেবে নাকি
দুই পাল আর দুই হাল ধরে চলো
একই নদীতে বহু দূরে চলে যাই।
তোমার কাছে কি এ সবই কুলস্নু হারাম
গণতন্ত্রেই শুধু ভোট দিয়ে যাবে?
মাঝিমাল্লারা যদি হয় বেশি লোভী
খেয়ে ফেলে যদি নদীটাই তীরসহ?
প্রথম আলিঙ্গন
রাত এলে ভাবি কখন হবে দিন
তোমার সাথে দেখা হলেও তো হতে পারে
যেখানে জীবন ছোট করেছে লোডশেডিং
তোমার ডাকেই সে শুধু প্রাণ পাবে
পনেরই মে, আজ আমার চুমু দিবস
তোমার না আজ প্রথম আসার কথা!
মনে হয় যেন অনেক জন্ম পর
আবার বসেছি আজকের হাহাকারে
বহু জীবনে যে সাধ মিটে নাই
বারবার চাই তোমাকে যে বাস্তবে।
তুমি কি রওনা হলে?
কখন পৌঁছাবে লালমাটিয়ায়
যখন সমস্ত শহর নিজেদের প্রয়োজনে
জট পাকিয়ে রাস্তায় গোঙায়?
তুমি কি আসছো বেলা এগারোটার আগে
আমার নিজেকে মেয়ে মেয়ে যেন লাগে
নাকি বিকালে? দ্বিধায় দুলছি এখন
প্রতীক্ষা কেমন আড়ষ্ট করেছে, কাজে নেই মন!
যখনই আসো, বীরপুরুষের মতো
আমাকে দিও প্রথম আলিঙ্গন
১৫/৫/০৮
জানালা কোথায়, এ যে সব মৌমাছি
জানালা কোথায়, এ যে সব মৌমাছি
ফুলের জন্ম মনে করিয়ে দিল
তখন আমি কী ফুল ছিলাম?
তুমি এলে ঠিকই ধরিয়ে দিতে পারতে
আমার কী রঙ, কোন সে গন্ধ ধারাতে!
আমি আজ নরম, তুমি যেন হাহাকার
ঘুরে ঘুরে দেরি করে আসা কী দরকার?
নিশ্চয়ই তুমি এ পথ থেকে ও পথে
হঠাৎ কোন পাগলা হাওয়ার দাপটে
মাঠে বাদাড়ে ডোবা খানা থেকে বিপথে
বৃষ্টির কাছে মাপ চেয়ে চেয়ে ফিরে গেছো!
১৫/৫/০৮
শাদাকালো
তুমি তো নিশ্চয়ই আজ কালো শাড়ি পরে ছিলে
আনন্দকে কখনো কখনো কালো রঙ দিয়ে ঢেকে ফেলতে হয়।
এখন আমাকে বলো তোমার কালো রঙের রহস্য!
তুমি বলেছিলে তোমাকে ঘিরে আছে তিনটা ঘোড়া
একটার নাম অভিমান
অন্যটার নাম রাগ
আর শেষটার নাম দিয়েছো যন্ত্রণা।
নিশ্চয়ই আজ কালো শাড়ির সাথে ছিল শাদার মিশেল
তোমার কালোর কাছে শাদা হতে পারতাম আমি
শাদা হতে পারতো রৌদ্র
আমাদের সব অভিমান বুজে যেতো
আমাদের সব রাগ বরফ যুগের আইসক্রীম হতো
আমাদের যন্ত্রণার ঘোড়া পিছু নিতো না আর।
সে যাক, যা হবার তা হয়েছে
শাদা আর কালো দিঘিতে তোমার নাভীপদ্মের সৌরভ
আজ সমস্ত শহর ছড়িয়ে পড়েছে
আমি ঘরে বসেই তার আকুল সুঘ্রাণ পাচ্ছি
ছোট্ট সোনা ব্যাঙ, তোমার কি বর্ষাকাল আসবে না?
আমাকে তছনছ করে
আমাকে তছনছ করে দিলে, আমাকে থমকে দিলে আজ
মাত্র দশ মিনিটের দর্শন আমার সারাটা দিনকে পথে বসিয়ে দিল
উত্তর থেকে দক্ষিণে বাসে চড়লাম,
পূর্ব থেকে পশ্চিমে রিকসায় চড়লাম, হাওয়ার উড়িয়ে দিলাম হাতপাখা
মনে হচ্ছে আমার দেহের ভিতরে এই গ্রীষ্মের তপ্ত হাওয়া ঢুকে পড়েছে।
দোকানের ছোট ছোট জেনারেটর গুলি আমার ভিতরে চলতে শুরু করেছে
ঢাকা থেকে আমি চলে গেছি সিচুয়ানের ভূমিকম্পে
ছোট ছোট শহরগুলি দেবে যাচ্ছে
সকাল না হতেই
সকাল না হতেই, জৈষ্ঠ্য মাসের পাখিরা ডাকছে থ্যাঙ্কিয়্যু
ঢাকার পাখিরা শিখলো করে ইংরেজি
পাখিগুলি সব ভদ্রপাখি
যদিও কাকেরা ডাকছে হায় হায়
যেনবা ওরা খবর পেয়েছে
মিয়ানমারে চিনে মানুষের খুব দিন অসহায় সাইক্লোন আর ভূমিকম্পে
তুমি কি বিশ্বাস করো, পাখিরা মানুষের মনের কথা বোঝে?
নইলে কেনো সে বলছে থ্যাঙ্কু ইউ, থ্যাঙ্কু ইউ,
তোমাকে ধন্যবাদ, ধন্যবাদ তোমাকে
আমাকে তুমি দিয়েছো যে তোমার অমূল্য মন
যার তুলনা নেই এ পৃথিবীতে
দেখো কিযে শিউরে উঠছে আমার ত্বক
শুধু ভাবতেই তোমার প্রসঙ্গ এই বেলা।
আজকাল প্রায়ই প্রত্যুষে
আজকাল প্রায়ই প্রত্যুষে উঠে বসে থাকি
দেখতে দেখতে রাস্তা ও গাছ ভেসে ওঠে অন্ধকার থেকে
আকাশে লুকায় প্রতিপদের চাঁদ লজ্জ্বার
ছেলেটি যেনবা বাড়ি ফেরে নাই রাতে
পথে পথে আর এখানে সেখানে দেরি করে
সূর্য ওঠার আগেই ফিরছে আজ ঘরে
বলতো এসব দেখে কি মনে পড়ে যায়?
কৃষ্ণ ফিরছে সারারাত পরে রাধার আঙিনায়
কলংকিত চাঁদ সে কারণ শত সখী ব্যস্ত বিবিএ।
আমি বলি, খেলে আমার মাথাটি চিবিয়ে
সারা দুপুর আর বিকাল সন্ধ্যা
ক্লান্ত আমাকে দেখাচ্ছে খুব অফিস ফেরতা
আসলে কি হয়েছে তোমার সঙ্গে সে কথা কাউকে বলা কি যায়?
খুব তো হাসছো মন খুলে
এদিকে আমাকে বাসায় ঢুকতে হচ্ছে মুখ শুকনো করে।
পাশাপাশি অনেক গুলি দালান
পাশাপাশি অনেক গুলি দালানের মধ্যে
দাঁড়িয়ে আছে একটা মাত্র গাজর রঙের দালান
আমি দেখতে থাকি তাকেই
মাঠ ভর্তি কোলাহল, যেন তুমি খেলছো ছোটবেলাকার ছেলেমেয়েদের মিশ্র ফুটবল
সূক্ষ্ণ কলাকৌশল যার ছিল না
সুর্যাস্তের দিকে পিঠ দিয়ে বসে থাকায়
দালান গুলির ওপর শেষ আলোকচ্ছটা ঠিকরে পড়ার শব্দ বেশ টের পাচ্ছি
এই বিকালটা যেন একটা ক্ষুধার্ত কাছিম
জবা ফুল গুলি চিবিয়ে চিবিয়ে খাচ্ছে
তার পাশে বসে, তোমার নাম মিশেল,
তুমি পূরানো ও নতুন দিনকে চঞ্চল স্রোতে বেঁধে দিচ্ছ
একটা ছাতার মত আকাশের নিচে
একটা কাপের মত আলো অন্ধকারে
পাষানের সাথে ঝর্নাকলমের বিয়ে হচ্ছে
তোমার ক্রিকেট পিচে
তোমাকে স্পর্শ করে বাতাস ও বইতে পারে না
তোমার কাছে এসে পুলিসের বাঁশি থেমে যায়
সেই প্রায় আয়তাকার মাঠটি থেকে সবার চোখ এসে
তোমার ক্রিকেট পিচে একবার করে বল করে যাচ্ছে
তোমাকে স্পর্শ করে যাচ্ছে পুরানো পাখিরা
তোমাকে দেখে যাচ্ছে কার্নিশের ছায়া
তোমাকে স্পর্শ করে গেল অনেক গাছের ভিড়ে
দেয়াল ঘেঁষা একটা ছোট্টো চারা
তোমাকে ঘুরে গেল একটা বদমাশ মাছি
কার যেন রেকর্ড করা এস্রাজের সুর
তোমার বাহুর সোনালি হলদে ত্বকের নিচ থেকে এমন
মরমী শিরা গুলি ছুঁয়ে গেল আমার জন্মদিন
যেন পৃথিবীতে কোন কালে ক্ষুধা তৃষ্ণা ক্ষমতার কোন সমস্যা ছিল না
আমরা শুধু চুপচাপ বসে ছিলাম।
কেমন ভেজে রেখেছে ফুল গুলি
কেমন ভেজে রেখেছে ফুল গুলি, কেমন সাজানো টবে গাছ
বাটিভর্তি পদ্মার ইলিশ, থোকা থোকা অন্ধকার, স্বচ্ছ পানির দেশি সরপুটি
সবাই খাচ্ছে সবাইকে, কেউ বন্ধুর চাঁদামাছ
সহপাঠির উষ্ণ ভাজা
সম্পকের্র আম জাম, নতুন পরিচয়ের তালশাঁস
গল্পের রসালো লিচু থেকে খোসা ছাড়িয়ে
অনেকেই টুকটাক আলাপ করছিল
কিন্তু তোমাকে আমার খেতেই ইচ্ছা করল না
মনে হলো একদিনে না খেয়ে
বহুদিন একটু একটু করে দেখেই থাকিনা!
তোমাকে নিয়ে হেটে আসি
চলো তোমাকে নিয়ে হেটে আসি মানিকদি’র মাঠ
যেখানে ঢাকা শহর তলিয়ে যেতে যেতে একটু ভেসে উঠছে
সামরিক ছাউনির রাগ থেকে বাঁচার জন্য আমরা কত কিছুই না করতে চাই
রাত এখন মুক্তি পাবে কি?
বিছানার নিচে নড়ে উঠছে শষের্র বিচি
আষাঢ় মাসের রাতে কান পেতে শুনতে পাচ্ছি
চিড়িয়াখানার অচেনা পশুদের দীর্ঘশ্বাস
তুমুল বৃষ্টি রাস্তায় আছড়ে পড়ার শব্দে
শুনতে পাচ্ছি তোমার ফোঁপানোর শব্দ
তুমি গুচ্ছ গুচ্ছ ভোরের শিশুদের জন্ম দেবে বলে কি
এমন রাত গুলিতে একা থাকা বেছে নিলে
যখন ক্রুদ্ধউরু ভালবাসতে চায়
তখন এলোমেলো হচ্ছে বকুলের ঝরে যাওয়া
মানিকদি’র আকাশে আমরা খেলনা হেলিকপ্টার ওড়াতে গিয়ে
হাতে পেলাম ব্যাটারি শেষ হবার লাল সংকেত
ভিজে যাবার পরেও দরজাটা খোলা রইল
তোমার গলার সাথে আমার গলার মিল হবার জন্য
হাতে গোনা কয়েকটা দিন
হাতে গোনা কয়েকটা দিন। গ্রীষ্মের পর বর্ষাকাল।
তীব্র সূযের্র দিন গুলি ভিজা দিনে প্রবেশ করছে।
আমি বসে বসে কাঁদি, কিন্তু কোন কান্নার চিহ্ণই তো আমার নাই।
হাতে গোনা কয়েকটা মাত্র দিন বা স্তব
আর সব আমার কল্পনার রংয়ে ছন্দে বোনা
তোমার একটা কানের ছবি তোলা
তোমার একটা কানফুল মেঝেতে কুড়িয়ে পাওয়া
তোমার একটা অল্প লালচে চুল আমার ঘরে
হাতে গোনা কয়েকটা মাত্র বা স্তব দিন নিয়ে
আমি জুয়া খেলায় নেমেছি কল্পনার সাথে
তুমুল বৃষ্টিতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছি আর
নিজেকে তুলে দিচ্ছি হুড তোলা রিকসার
একটুকরা পলিথিনের পর্দার পিছনে
কি গাদাগাদি করেই না বসেছি আর
কি চেষ্টা করেই না স্পর্শ বাঁচানোর কষ্ট করে যাচ্ছি
যাতে তুমি কোন ভুল সংকেত আমার কাছ থেকে না পেয়ে যাও
তাহলে বা স্তব কি ঐ তোমার স্পর্শ বাঁচানো?
আর কল্পনা হলো শক্ত করে তোমার বা হাতের পাঁচটা আঙ্গুলের মধ্যে
আমার ডান হাতের পাঁচটা আঙ্গুল খুব জোর দিয়ে চেপে ধরা?
ঢাকা শহরে
ঢাকা শহরে কোন মাঠ নাই।
ঢাকার ছাদ গুলি হচ্ছে মাঠ।
সরু সরু রাস্তা গুলি অন্ধকারে ডুবে আছে।
তুমি তোমাদের ছাদের ছোট মাঠটাতে দাঁড়িয়ে
তাকিয়ে আছো শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমার চন্দ্রোদয় দেখবে বলে।
মনে পড়ছে কি আষাঢ়ের প্রথম দিনের কথা?
আকাশভর্তি কালো উড়ে যাওয়া মেঘ গুলিতে
শহরের আলো পড়ে শাদা দেখাচ্ছিল
মাঝে মাঝে ফাঁকা, সেখানে অনেক দূরের মহাশূন্য পর্যন্ত শূন্য আকাশ
তুমি কথা বলতে বলতে
মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে থাকলে
যেন আমি তোমার সামনেই দাঁড়িয়ে আছি
তুমি প্রায় আমার সমান উচ্চতায় থেকে
আমার চোখের দিকে তাকিয়ে থেকে
কিছুটা ঘোরলাগা কন্ঠে বললে, আমি ভালবাসি তোমাকে…
আমি তোমাকে চাই আমি তোমাকে নিয়ে হারিয়ে যেতে চাই
তারপর বললে তারপর বললে বললে তারপর
বিরবির করে শূন্য মুহূর্তের দিকে বললে
যা বোঝা গেল আবার বোঝা গেল না
শ্রাবণ মাসের আকাশ ঢেকে ফেলা কাঁচা পাকা মেঘ
কেমন গম্ভীর, বয়স্ক আর দুষ্টুমির ভিতর থেকে
পূর্ণিমার চাঁদকে তোমার চোখ থেকে লুকিয়ে রেখেছে
কিন্তু আমি জানি, তোমার দুচোখ ভিজে আসছে কান্নায়
সেদিন যে কথাটা বলেও শেষ করতে পারনি
আমরা মুখোমুখি আসতে পারিনি বলে
সেটাই প্রতিনিয়ত তুমি বলে যাচ্ছ
চাঁদ উঠুক না উঠুক বৃষ্টি হোক না হোক
চোখ ভিজে ওঠে শ্রাবণ মাসে।
ঢাকায় কোন
ঢাকায় কোন শ্রাবণ মাস নাই।
বছর বছর শুধু বন্যার কষ্ট
ঢাকার কোন হৃদয় নাই।
মিরপুরে হৃদয় নাই। কচুক্ষেতে হৃদয় নাই। বাড্ডায় হৃদয় নাই।
হৃদয় নাই শ্যাওড়াপাড়ায়, যাত্রাবাড়ি, উত্তরখানে।
ক্যান্টনমেন্টের হৃদয়হীনতা সারা শহরে।
যখন কেউ মধ্যরাতে আর্তনাদ করে ওঠে
সেই আর্তনাদ ঘরের এককোনায় আটকে থাকে,
যখন কেউ গুমরাতে থাকে বিরহে
তখন তা এক চিলতে বারান্দার মধ্যে বসে থেকে।
একরুম থেকে আরেক রুমে পায়চারি
রান্নাঘর থেকে পানির জগ ভরে নেবার চেষ্টা
টেবিলে কাগজ পড়ে থাকে, কলমের অভাবে তোমাকে লেখা হয় না।
শ্রাবণ মাসে তুমি গ্রামের বাড়িতে গিয়ে
উঠানের কাদায় পা ডুবিয়ে গভীর রাতে ফোন করে যাচ্ছো
আর আমি নেটওয়ার্ক বিভ্রাটে কিছুই শুনতে পাচ্ছি না!
সত্য সত্যই কি আমার ষাটভাগ বাস্তবতার মাঝে
তুমি চল্লিশ ভাগ কল্পনা কোথাও আছো?
গত সপ্তাহে আমিও তো গিয়েছিলাম পাহাড়ে
তুমি ছিলে রাজধানীর বিছানায়
আমি যত আবেগে, সেই মধ্যরাতে
সাপের আলিঙ্গন আর ব্যাঙের পাহারায়
ঘরের বাইরে, নিরালায়
তোমাকে চেয়েছিলাম ফোনের ইশারায়
প্রায় সারারাত নিষিদ্ধ আগ্রহে
তোমাকে টেনে বের করেছিলাম
নির্ঘুম নীল রাতের পোষাকে।
আজ একি হলো
তুমি গেলে নীল যমুনার পাড়ে
যেখানে গ্রাম টাঙ্গাইলের শ্রাবণে
নৌকায় করে তোমাকে টানার কথা
সেখানে নাকি শুকনা খটখটে
নদীর বুকে ঘনঘটা নাই ঢেউয়ের
তুমি ফিরে এলে ঝগড়ার ছলনায়
পাশের ঘরে শাশুড়ির নাক ডাকা
জেগে থেকে পার করে দিলে নিশি ভোর
অথচ দেশে ফিরে এলো খুব ভোট
নির্বাচিত, পুরানো যত চোর
কিছুই বদলায় না, অন্তত বদমাস,
বদলায় শুধু আমাদের যা হবার কথা
আমরা যখন রাত জেগে থাকি শ্রাবণে
প্রেমের দেবতা রাস্তায় নামে মাগনে!
শ্রাবণ চলে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে
শ্রাবণ চলে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে
খোঁড়াখুঁড়ি করা রাস্তায়। হাঁটুপানি, গর্ত আর ছিটকানো কাদার ভয়ে
আমি তোমার আসার পথের দিকে
খালি পেটের কুকুরের মত পা দুটি ভাঁজ করে
সারাদিন অপেক্ষায় বসে থাকি
নিশ্চয়ই কোথাও তুমি বসে বসে হাসছো
নিশ্চয়ই তোমার চোখের তারায় ভাসছে কামনার সূক্ষ্ণ ঢেউ
শক্ত দিন গুলি আমাকে চেপে চেপে কষ্ট দিচ্ছে
সন্দেহের হূল ফোটাচ্ছে বন্ধুরা প্রতিনিয়ত
আর তাদের গুপ্তছুরির ভয়ে আমার ঘুম হারাম হয়ে যাচ্ছে
একটা ক্লান্তি এসে আমাকে শূন্য করে দিচ্ছে
সেই শূন্যতা আমাকে ফিরিয়ে নিতে চাইছে
নিজেকে পুড়িয়ে ফেলার দিকে
কিন্তু আজ আমি আর চাইনা কিছুতেই
তোমাকে ছাড়া কোন কালো মুখের দিন –
চলো পান করি
চলো আজ পান করি। চলো, চলো।
চোখের নিচে ঘাম ছলো ছলো।
আজ পান করি তোমাকে আবেগ, তোমার ছায়ার মূর্ছনা।
তুমি পাশে নাই তো কি হয়েছে, আজ তোমাকে ছাড়ছি না
রূপকথায় ঢুকে গিয়ে ছোট্ট কৌটায় করে তোমাকে আনবো
আজ সারা রাত তোমাকে পাশে বসিয়ে ছানবো
একটার পর একটা বাক্স খুলে খুলে
একটার পর একটা চেহারা আমি দেখছি খুঁজে থুঁজে
সামান্যতেই কি যে অসামান্যতা দেখা যায়
ছোট্ট পাখিই আমায় করেছে দিওয়ানা
সত্যি কথা কি তোমাকে বলবো?
আমার কাছে যে শেষ সত্যি বলে কিছু নাই
আমার কাছে যে তোমার সব রূপই কল্পনা
আমি যে তোমাকে পাশে কোনদিনই বসাবো না
চেয়ার টেনে বরং মুখোমুখি বসি
তোমাকে পড়িয়ে দেই আমার প্রিয় চাঁদ
পান করি তোমাকে আমার চোখের চুমুকে
তোমার চিবুক, রক্তে রাঙানো দুঠোঁট
আর কপালে, ভ্রুকুঞ্চন আর এক কালো ছোট টিপ
যাতে ঢিবঢিব করে বুক!
না না কি যে ভাবি, তুমি কেনো হারিয়ে যাবে আবার!
তুমি যে আমার সাগর খুঁজে পাওয়া মুক্তা।
না, না, তুমি আমার আশ্বিনের পদ্ম ফুলের মধু
বিষন্ন ভ্রমর আমি অকারনেই বিল আর হাওরে উড়ি।
তুমি আমার পাজামা পড়ে ঘুরছো!
কবিদের প্রতারিত করে নিজের চেহারার লোভে
ফটোগ্রাফারের পিছনে পিছনে যাচ্ছো না
সবুজ ধানখেতের ওপর মেঘ হতে চাওয়া রমনী তুমি
সারাক্ষণ রমণের অজস্র স্বপ্নের ভিতর থেকে
বেরিয়ে এসেছো তুমি আমার কামলোভী মনের বাইরে
তোমার মেঘের বৃষ্টি হোক বা না হোক
আশ্বিনে আমি তোমার কাশফুল চাই
সামনে আসছে কঠিন রোজার মাস, কিন্তু আমাকে তুমি
সিয়ামের পথে ডেকো না
সারা বছর আমি রোজা করেছি
এই একটি মাস তোমাকে পাবো বলে!
তুমি বলবে এ আমার বদমায়েসি
আমি চাই তোমাকে আরেকটু রোগা দেখতে এই রমজানে
ঠিক আছে তাই হবে
আমার এই অবিশ্বাসী মন, তোমার বিশ্বাসের অবরোধে
আজ স্বস্ত্বি পাবে
তুমি তো জানো স্বগের্র লোভে আমার মন দোলে না
আমি চাই তোমাকে পার্থিব আয়োজনে
তুমি যতো আমার অবিশ্বাসী মনে
সংক্ষেপে চাও নিয়ন্ত্রণের দায়
আমি মনে ভাবি, ৩/৫ ভাগ ছোট তুমি
চাইবেই তো আমার নিরাময়
কিন্তু আমি যে ‘পাগলা আধূনিকের’ পরের
আমার নাই যে কোন সাত্রের্র দায়
কাল মার্কসের হিসাব গিয়েছে পুরানায়
আমি নাচি মন মদনের বাহানায়
আমার এমন অবিশ্বাসী জমানায়
পুরানা দিনের বিশ্বাসীর মনও হারায়
আমি চাই, যেন ক্ষমতাহীন বুড়াটি
খুঁজে পায় তার চিন্তা করার স্বাধীনতা!
আবার একটা চমক, আগস্টে
আবার একটা চমক। আবার একটা রহস্যের দরজা খুলে তুমি বেরিয়ে এলে
আর বললে কিনা এটা কি আমাকে হারিয়ে ফেলার জন্য যথেষ্ঠ না
এদিকে তোমাদের বিল্ডিংয়ের অনেক আদরের দারোয়ান কবে যেন কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছিল
গতকালই তার মৃত্যু হলো জলাতংকে আর তোমার মেয়েটি আতংকে সারারাত ঘুমাতে পারেনি
আজ সন্ধ্যা থেকেই ও বিষন্ন, আজ সারা বিকাল থেকেই ওর বমি বমি লাগছে
তোমার ঘর দেখা হলো, তোমার বেসিন দেখা হলো আজ
আতংক আর ম্রিয়মানতার মধ্যে
একটা ছোট্ট চার দেয়াল বন্দি সবুজ পরিবার
ধূলায় আর হৈ চৈ করা রিকসাভর্তি রাস্তার পাশে
করুণ আতিথেয়তার সাথে স্বাক্ষাৎ হলো।
তুমি একটা ফোমের হরিণ ঝুলিয়ে রেখেছ তোমার ঘরে
বন্দি চীনা পাখি ডেকে উঠল তোমার সেলফোনে
তোমার নিজস্ব সাক্ষাৎকার দেখা হলো আজ
তোমার গন্ডি দেখা হলো
তোমাকে দেখা হলো না
সোর্সঃ কীর্তিকলাপ ওয়েবম্যাগ
মাঘ ১৪১৫, ফেব্রুয়ারি ২০০৯
রচনা কাল
মে-আগষ্ট ২০০৮
স্বত্ব
দ্বৈত বনতুলশী
প্রকাশক: পাঠসূত্র
১৫২/২-কে, গ্রিন রোড
পান্থপথ, ঢাকা
প্রচ্ছদ
নাইমুজ্জামান প্রিন্স
দাম
৭০ টাকা
সূচি
আমাকে আবার লাইনে দাঁড় করালে/ দুইটা চাঁদ/ শোনাই তোমাকে আবার কাঁচা পদ্য/ ধারানি শোধানি/ প্রথম আলিঙ্গন/ জানালা কোথায়, এ যে সব মৌমাছি/ শাদাকালো/ আমাকে তছনছ করে/ সকাল না হতেই/ আজকাল প্রায়ই প্রত্যুষে/ পাশাপাশি অনেক গুলি দালান/ তোমার ক্রিকেট পিচে/ কেমন ভেজে রেখেছে ফুল গুলি/ তোমাকে নিয়ে হেটে আসি/ হাতে গোনা কয়েকটা দিন/ ঢাকা শহরে/ ঢাকায় কোন/ আজ একি হলো/ শ্রাবণ চলে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে/ চলো পান করি/ আবার একটা চমক, আগস্টে
ঋণা শামীম আক্তার জাহান কে
তোমার কাছে আমার ঋণ কখনো শোধ হবে না
আমাকে আবার লাইনে দাঁড় করালে
আবার আমাকে হাজির করেছো তোমার সামনে
এক লাইনে দাঁড় করালাম অনেক গুলি আমাকে
অনেক দূর চলে গেছে সেই লম্বা লাইন
তাকিয়ে দেখি কারো বয়স বারো, হাফপ্যান্ট ছেড়ে ফুলপ্যান্ট পরেছে
কেউবা আঠারো, ভিড় করে আছে তার মুখে একা থাকার চরম নির্যাতন
কারো বা ছাব্বিশ -অস্থিরতা , যন্ত্রণার মুখোশ পরা
কেউ তিরিশ – ক্লান্ত, পথহারা, সোনালি মাথায় কালো চুল
তুমি কি ন্যায্যমূল্য? তুমি কি বিকল্প বাজার?
আমার সাধ্যের জোর যখন দুর্বল হয়ে যাচ্ছে
তুমি এলে ত্রাতা হয়ে?
আমাকে আবার লাইনে দাঁড় করালে
আমাকে আবার টেনে নিলে তোমার সাশ্রয়ী দোকানে!
দুইটা চাঁদ
তোমাকে দেখবো কবে ও চাঁপা কাষ্ঠগোলাপ?
তোমার আমার মাঝখানে একটা যে ফাঁকা মাঠ
অনেক গুলি টাওয়ার
অনেক গুলি চাঁপা শাদা ফুল সবুজ পাতার
আমাকে টেনে নিয়ে গেলে একটা খোলা মাঠে
যেখান থেকে স্পষ্ট বিদ্যুৎচ্চমক দেখা যায়
আমি দেখতে পাচ্ছি টহল হেলিকপ্টার
তুমি সেই দিগন্ত জোড়া মাঠে আমার সাথে বসে থাকলে
আমাদের সামনেই সমস্ত মহানগর
বৈশাখ মাসের সন্ধ্যায় যায় লোডশেডিং-এ ডুবে গেল
দেখলাম আকাশভর্তি অর্ধেক আলোকিত চাঁদ
বাকি অর্ধেক অন্ধকার চাঁদকে নিয়ে হাওয়া খাচ্ছে
তোমার আমার মাঝখানে একটা যে ফাঁকা মাঠ
অনেক গুলি টাওয়ার
অনেক গুলি চাঁপা শাদা ফুল সবুজ পাতার
আমাকে টেনে নিয়ে গেলে একটা খোলা মাঠে
যেখান থেকে স্পষ্ট বিদ্যুৎচ্চমক দেখা যায়
আমি দেখতে পাচ্ছি টহল হেলিকপ্টার
তুমি সেই দিগন্ত জোড়া মাঠে আমার সাথে বসে থাকলে
আমাদের সামনেই সমস্ত মহানগর
বৈশাখ মাসের সন্ধ্যায় যায় লোডশেডিং-এ ডুবে গেল
দেখলাম আকাশভর্তি অর্ধেক আলোকিত চাঁদ
বাকি অর্ধেক অন্ধকার চাঁদকে নিয়ে হাওয়া খাচ্ছে
তা হলে দুইটা চাঁদ মিলেই একটা চাঁদ হয়!
বিশাল মাঠটাকে চলো দুইভাগ করে ফেলি
তুমি দাঁড়িয়ে থাকো একটায়
আমি শুয়ে থাকি অন্য মাঠে
ঐ দেখো আকাশ কেমন খালি। এটা শহরের আকাশ
আমাদের ছোটবেলার আকাশ ছিল কত তারাময়
অনেকগুলি টাওয়ার পার হয়ে তোমার কথা ভেসে এলো
অনেক গুলি দালান, রাস্তা, পার্ক, বস্তি পার হতে হতে
তারপরও তোমার কন্ঠ স্বর কেমন সুরভি ছড়াচ্ছে
মনে হয় এই তো তুমি আমার পাশের মাঠে, শুয়ে
আমি অর্ধেক চাঁদ দাঁড়িয়ে!
বিশাল মাঠটাকে চলো দুইভাগ করে ফেলি
তুমি দাঁড়িয়ে থাকো একটায়
আমি শুয়ে থাকি অন্য মাঠে
ঐ দেখো আকাশ কেমন খালি। এটা শহরের আকাশ
আমাদের ছোটবেলার আকাশ ছিল কত তারাময়
অনেকগুলি টাওয়ার পার হয়ে তোমার কথা ভেসে এলো
অনেক গুলি দালান, রাস্তা, পার্ক, বস্তি পার হতে হতে
তারপরও তোমার কন্ঠ স্বর কেমন সুরভি ছড়াচ্ছে
মনে হয় এই তো তুমি আমার পাশের মাঠে, শুয়ে
আমি অর্ধেক চাঁদ দাঁড়িয়ে!
শোনাই তোমাকে আবার কাঁচা পদ্য
তোমার কন্ঠ স্বর অবিকল তোমার মতই নাকি?
নাকি কিছুটা আঞ্চলিক?
বনলতা সেনকেও দেখা যায় নাই
শেও কি ছিল না কিছু কাল্পনিক?
গতকাল তোমাকে কথার আঘাত দিয়েছি
বলেছি খুলে ধরো পুরোটা তোমাকে
আজ তুমি ব্যস্ত থাকবে, ভোটার আইডি কার্ড বানাতে
দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেগে উঠেছে মন
মেতেছে সবাই খুব স্বপ্নে
আমি পড়ে গেছি তোমার কুহকে
টাওয়ার টাওয়ারে সংযোগ খুঁজি
তোমার চুল খুলি খুব যত্নে
থাক আলোচনা পরিচয় নিয়ে
তুমি কি বাঙালি আর আমি বাংলাদেশী
পাশে এসে বসো না গো এলোকেশী
শোনাই তোমাকে আবার কাঁচা পদ্য
হাঁড়িতে যদিও বা দানা টানাটানি
গাও না গান আজ ওগো টুনটুনি
কিছুটা ভুলভাল, কিছুটা পুরানা
আমার হাতে থাক চলেশ রিসিলের মদ্য।
ধারানি শোধানি
কেন তুমি আজ এতো বেশি চুপচাপ
বোরখায় ঢেকে রেখেছো মুখখানি
পাড়ার সবাই দিয়েছে কি অভিশাপ
হাতে কি হারাম হালালের তালিকাটা।
টাওয়ারে টাওয়ারে রচিছে ভবিষ্যত?
তোমার কোনো ধারানি শোধানি নাই।
তুমি এক নাও, আমারও ছোট্ট তরী
এই কাল বৈশাখে পাল তুলে দেবে নাকি
দুই পাল আর দুই হাল ধরে চলো
একই নদীতে বহু দূরে চলে যাই।
তোমার কাছে কি এ সবই কুলস্নু হারাম
গণতন্ত্রেই শুধু ভোট দিয়ে যাবে?
মাঝিমাল্লারা যদি হয় বেশি লোভী
খেয়ে ফেলে যদি নদীটাই তীরসহ?
প্রথম আলিঙ্গন
রাত এলে ভাবি কখন হবে দিন
তোমার সাথে দেখা হলেও তো হতে পারে
যেখানে জীবন ছোট করেছে লোডশেডিং
তোমার ডাকেই সে শুধু প্রাণ পাবে
পনেরই মে, আজ আমার চুমু দিবস
তোমার না আজ প্রথম আসার কথা!
মনে হয় যেন অনেক জন্ম পর
আবার বসেছি আজকের হাহাকারে
বহু জীবনে যে সাধ মিটে নাই
বারবার চাই তোমাকে যে বাস্তবে।
তুমি কি রওনা হলে?
কখন পৌঁছাবে লালমাটিয়ায়
যখন সমস্ত শহর নিজেদের প্রয়োজনে
জট পাকিয়ে রাস্তায় গোঙায়?
তুমি কি আসছো বেলা এগারোটার আগে
আমার নিজেকে মেয়ে মেয়ে যেন লাগে
নাকি বিকালে? দ্বিধায় দুলছি এখন
প্রতীক্ষা কেমন আড়ষ্ট করেছে, কাজে নেই মন!
যখনই আসো, বীরপুরুষের মতো
আমাকে দিও প্রথম আলিঙ্গন
১৫/৫/০৮
জানালা কোথায়, এ যে সব মৌমাছি
জানালা কোথায়, এ যে সব মৌমাছি
ফুলের জন্ম মনে করিয়ে দিল
তখন আমি কী ফুল ছিলাম?
তুমি এলে ঠিকই ধরিয়ে দিতে পারতে
আমার কী রঙ, কোন সে গন্ধ ধারাতে!
আমি আজ নরম, তুমি যেন হাহাকার
ঘুরে ঘুরে দেরি করে আসা কী দরকার?
নিশ্চয়ই তুমি এ পথ থেকে ও পথে
হঠাৎ কোন পাগলা হাওয়ার দাপটে
মাঠে বাদাড়ে ডোবা খানা থেকে বিপথে
বৃষ্টির কাছে মাপ চেয়ে চেয়ে ফিরে গেছো!
১৫/৫/০৮
শাদাকালো
তুমি তো নিশ্চয়ই আজ কালো শাড়ি পরে ছিলে
আনন্দকে কখনো কখনো কালো রঙ দিয়ে ঢেকে ফেলতে হয়।
এখন আমাকে বলো তোমার কালো রঙের রহস্য!
তুমি বলেছিলে তোমাকে ঘিরে আছে তিনটা ঘোড়া
একটার নাম অভিমান
অন্যটার নাম রাগ
আর শেষটার নাম দিয়েছো যন্ত্রণা।
নিশ্চয়ই আজ কালো শাড়ির সাথে ছিল শাদার মিশেল
তোমার কালোর কাছে শাদা হতে পারতাম আমি
শাদা হতে পারতো রৌদ্র
আমাদের সব অভিমান বুজে যেতো
আমাদের সব রাগ বরফ যুগের আইসক্রীম হতো
আমাদের যন্ত্রণার ঘোড়া পিছু নিতো না আর।
সে যাক, যা হবার তা হয়েছে
শাদা আর কালো দিঘিতে তোমার নাভীপদ্মের সৌরভ
আজ সমস্ত শহর ছড়িয়ে পড়েছে
আমি ঘরে বসেই তার আকুল সুঘ্রাণ পাচ্ছি
ছোট্ট সোনা ব্যাঙ, তোমার কি বর্ষাকাল আসবে না?
আমাকে তছনছ করে
আমাকে তছনছ করে দিলে, আমাকে থমকে দিলে আজ
মাত্র দশ মিনিটের দর্শন আমার সারাটা দিনকে পথে বসিয়ে দিল
উত্তর থেকে দক্ষিণে বাসে চড়লাম,
পূর্ব থেকে পশ্চিমে রিকসায় চড়লাম, হাওয়ার উড়িয়ে দিলাম হাতপাখা
মনে হচ্ছে আমার দেহের ভিতরে এই গ্রীষ্মের তপ্ত হাওয়া ঢুকে পড়েছে।
দোকানের ছোট ছোট জেনারেটর গুলি আমার ভিতরে চলতে শুরু করেছে
ঢাকা থেকে আমি চলে গেছি সিচুয়ানের ভূমিকম্পে
ছোট ছোট শহরগুলি দেবে যাচ্ছে
সকাল না হতেই
সকাল না হতেই, জৈষ্ঠ্য মাসের পাখিরা ডাকছে থ্যাঙ্কিয়্যু
ঢাকার পাখিরা শিখলো করে ইংরেজি
পাখিগুলি সব ভদ্রপাখি
যদিও কাকেরা ডাকছে হায় হায়
যেনবা ওরা খবর পেয়েছে
মিয়ানমারে চিনে মানুষের খুব দিন অসহায় সাইক্লোন আর ভূমিকম্পে
তুমি কি বিশ্বাস করো, পাখিরা মানুষের মনের কথা বোঝে?
নইলে কেনো সে বলছে থ্যাঙ্কু ইউ, থ্যাঙ্কু ইউ,
তোমাকে ধন্যবাদ, ধন্যবাদ তোমাকে
আমাকে তুমি দিয়েছো যে তোমার অমূল্য মন
যার তুলনা নেই এ পৃথিবীতে
দেখো কিযে শিউরে উঠছে আমার ত্বক
শুধু ভাবতেই তোমার প্রসঙ্গ এই বেলা।
আজকাল প্রায়ই প্রত্যুষে
আজকাল প্রায়ই প্রত্যুষে উঠে বসে থাকি
দেখতে দেখতে রাস্তা ও গাছ ভেসে ওঠে অন্ধকার থেকে
আকাশে লুকায় প্রতিপদের চাঁদ লজ্জ্বার
ছেলেটি যেনবা বাড়ি ফেরে নাই রাতে
পথে পথে আর এখানে সেখানে দেরি করে
সূর্য ওঠার আগেই ফিরছে আজ ঘরে
বলতো এসব দেখে কি মনে পড়ে যায়?
কৃষ্ণ ফিরছে সারারাত পরে রাধার আঙিনায়
কলংকিত চাঁদ সে কারণ শত সখী ব্যস্ত বিবিএ।
আমি বলি, খেলে আমার মাথাটি চিবিয়ে
সারা দুপুর আর বিকাল সন্ধ্যা
ক্লান্ত আমাকে দেখাচ্ছে খুব অফিস ফেরতা
আসলে কি হয়েছে তোমার সঙ্গে সে কথা কাউকে বলা কি যায়?
খুব তো হাসছো মন খুলে
এদিকে আমাকে বাসায় ঢুকতে হচ্ছে মুখ শুকনো করে।
পাশাপাশি অনেক গুলি দালান
পাশাপাশি অনেক গুলি দালানের মধ্যে
দাঁড়িয়ে আছে একটা মাত্র গাজর রঙের দালান
আমি দেখতে থাকি তাকেই
মাঠ ভর্তি কোলাহল, যেন তুমি খেলছো ছোটবেলাকার ছেলেমেয়েদের মিশ্র ফুটবল
সূক্ষ্ণ কলাকৌশল যার ছিল না
সুর্যাস্তের দিকে পিঠ দিয়ে বসে থাকায়
দালান গুলির ওপর শেষ আলোকচ্ছটা ঠিকরে পড়ার শব্দ বেশ টের পাচ্ছি
এই বিকালটা যেন একটা ক্ষুধার্ত কাছিম
জবা ফুল গুলি চিবিয়ে চিবিয়ে খাচ্ছে
তার পাশে বসে, তোমার নাম মিশেল,
তুমি পূরানো ও নতুন দিনকে চঞ্চল স্রোতে বেঁধে দিচ্ছ
একটা ছাতার মত আকাশের নিচে
একটা কাপের মত আলো অন্ধকারে
পাষানের সাথে ঝর্নাকলমের বিয়ে হচ্ছে
তোমার ক্রিকেট পিচে
তোমাকে স্পর্শ করে বাতাস ও বইতে পারে না
তোমার কাছে এসে পুলিসের বাঁশি থেমে যায়
সেই প্রায় আয়তাকার মাঠটি থেকে সবার চোখ এসে
তোমার ক্রিকেট পিচে একবার করে বল করে যাচ্ছে
তোমাকে স্পর্শ করে যাচ্ছে পুরানো পাখিরা
তোমাকে দেখে যাচ্ছে কার্নিশের ছায়া
তোমাকে স্পর্শ করে গেল অনেক গাছের ভিড়ে
দেয়াল ঘেঁষা একটা ছোট্টো চারা
তোমাকে ঘুরে গেল একটা বদমাশ মাছি
কার যেন রেকর্ড করা এস্রাজের সুর
তোমার বাহুর সোনালি হলদে ত্বকের নিচ থেকে এমন
মরমী শিরা গুলি ছুঁয়ে গেল আমার জন্মদিন
যেন পৃথিবীতে কোন কালে ক্ষুধা তৃষ্ণা ক্ষমতার কোন সমস্যা ছিল না
আমরা শুধু চুপচাপ বসে ছিলাম।
কেমন ভেজে রেখেছে ফুল গুলি
কেমন ভেজে রেখেছে ফুল গুলি, কেমন সাজানো টবে গাছ
বাটিভর্তি পদ্মার ইলিশ, থোকা থোকা অন্ধকার, স্বচ্ছ পানির দেশি সরপুটি
সবাই খাচ্ছে সবাইকে, কেউ বন্ধুর চাঁদামাছ
সহপাঠির উষ্ণ ভাজা
সম্পকের্র আম জাম, নতুন পরিচয়ের তালশাঁস
গল্পের রসালো লিচু থেকে খোসা ছাড়িয়ে
অনেকেই টুকটাক আলাপ করছিল
কিন্তু তোমাকে আমার খেতেই ইচ্ছা করল না
মনে হলো একদিনে না খেয়ে
বহুদিন একটু একটু করে দেখেই থাকিনা!
তোমাকে নিয়ে হেটে আসি
চলো তোমাকে নিয়ে হেটে আসি মানিকদি’র মাঠ
যেখানে ঢাকা শহর তলিয়ে যেতে যেতে একটু ভেসে উঠছে
সামরিক ছাউনির রাগ থেকে বাঁচার জন্য আমরা কত কিছুই না করতে চাই
রাত এখন মুক্তি পাবে কি?
বিছানার নিচে নড়ে উঠছে শষের্র বিচি
আষাঢ় মাসের রাতে কান পেতে শুনতে পাচ্ছি
চিড়িয়াখানার অচেনা পশুদের দীর্ঘশ্বাস
তুমুল বৃষ্টি রাস্তায় আছড়ে পড়ার শব্দে
শুনতে পাচ্ছি তোমার ফোঁপানোর শব্দ
তুমি গুচ্ছ গুচ্ছ ভোরের শিশুদের জন্ম দেবে বলে কি
এমন রাত গুলিতে একা থাকা বেছে নিলে
যখন ক্রুদ্ধউরু ভালবাসতে চায়
তখন এলোমেলো হচ্ছে বকুলের ঝরে যাওয়া
মানিকদি’র আকাশে আমরা খেলনা হেলিকপ্টার ওড়াতে গিয়ে
হাতে পেলাম ব্যাটারি শেষ হবার লাল সংকেত
ভিজে যাবার পরেও দরজাটা খোলা রইল
তোমার গলার সাথে আমার গলার মিল হবার জন্য
হাতে গোনা কয়েকটা দিন
হাতে গোনা কয়েকটা দিন। গ্রীষ্মের পর বর্ষাকাল।
তীব্র সূযের্র দিন গুলি ভিজা দিনে প্রবেশ করছে।
আমি বসে বসে কাঁদি, কিন্তু কোন কান্নার চিহ্ণই তো আমার নাই।
হাতে গোনা কয়েকটা মাত্র দিন বা স্তব
আর সব আমার কল্পনার রংয়ে ছন্দে বোনা
তোমার একটা কানের ছবি তোলা
তোমার একটা কানফুল মেঝেতে কুড়িয়ে পাওয়া
তোমার একটা অল্প লালচে চুল আমার ঘরে
হাতে গোনা কয়েকটা মাত্র বা স্তব দিন নিয়ে
আমি জুয়া খেলায় নেমেছি কল্পনার সাথে
তুমুল বৃষ্টিতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছি আর
নিজেকে তুলে দিচ্ছি হুড তোলা রিকসার
একটুকরা পলিথিনের পর্দার পিছনে
কি গাদাগাদি করেই না বসেছি আর
কি চেষ্টা করেই না স্পর্শ বাঁচানোর কষ্ট করে যাচ্ছি
যাতে তুমি কোন ভুল সংকেত আমার কাছ থেকে না পেয়ে যাও
তাহলে বা স্তব কি ঐ তোমার স্পর্শ বাঁচানো?
আর কল্পনা হলো শক্ত করে তোমার বা হাতের পাঁচটা আঙ্গুলের মধ্যে
আমার ডান হাতের পাঁচটা আঙ্গুল খুব জোর দিয়ে চেপে ধরা?
ঢাকা শহরে
ঢাকা শহরে কোন মাঠ নাই।
ঢাকার ছাদ গুলি হচ্ছে মাঠ।
সরু সরু রাস্তা গুলি অন্ধকারে ডুবে আছে।
তুমি তোমাদের ছাদের ছোট মাঠটাতে দাঁড়িয়ে
তাকিয়ে আছো শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমার চন্দ্রোদয় দেখবে বলে।
মনে পড়ছে কি আষাঢ়ের প্রথম দিনের কথা?
আকাশভর্তি কালো উড়ে যাওয়া মেঘ গুলিতে
শহরের আলো পড়ে শাদা দেখাচ্ছিল
মাঝে মাঝে ফাঁকা, সেখানে অনেক দূরের মহাশূন্য পর্যন্ত শূন্য আকাশ
তুমি কথা বলতে বলতে
মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে থাকলে
যেন আমি তোমার সামনেই দাঁড়িয়ে আছি
তুমি প্রায় আমার সমান উচ্চতায় থেকে
আমার চোখের দিকে তাকিয়ে থেকে
কিছুটা ঘোরলাগা কন্ঠে বললে, আমি ভালবাসি তোমাকে…
আমি তোমাকে চাই আমি তোমাকে নিয়ে হারিয়ে যেতে চাই
তারপর বললে তারপর বললে বললে তারপর
বিরবির করে শূন্য মুহূর্তের দিকে বললে
যা বোঝা গেল আবার বোঝা গেল না
শ্রাবণ মাসের আকাশ ঢেকে ফেলা কাঁচা পাকা মেঘ
কেমন গম্ভীর, বয়স্ক আর দুষ্টুমির ভিতর থেকে
পূর্ণিমার চাঁদকে তোমার চোখ থেকে লুকিয়ে রেখেছে
কিন্তু আমি জানি, তোমার দুচোখ ভিজে আসছে কান্নায়
সেদিন যে কথাটা বলেও শেষ করতে পারনি
আমরা মুখোমুখি আসতে পারিনি বলে
সেটাই প্রতিনিয়ত তুমি বলে যাচ্ছ
চাঁদ উঠুক না উঠুক বৃষ্টি হোক না হোক
চোখ ভিজে ওঠে শ্রাবণ মাসে।
ঢাকায় কোন
ঢাকায় কোন শ্রাবণ মাস নাই।
বছর বছর শুধু বন্যার কষ্ট
ঢাকার কোন হৃদয় নাই।
মিরপুরে হৃদয় নাই। কচুক্ষেতে হৃদয় নাই। বাড্ডায় হৃদয় নাই।
হৃদয় নাই শ্যাওড়াপাড়ায়, যাত্রাবাড়ি, উত্তরখানে।
ক্যান্টনমেন্টের হৃদয়হীনতা সারা শহরে।
যখন কেউ মধ্যরাতে আর্তনাদ করে ওঠে
সেই আর্তনাদ ঘরের এককোনায় আটকে থাকে,
যখন কেউ গুমরাতে থাকে বিরহে
তখন তা এক চিলতে বারান্দার মধ্যে বসে থেকে।
একরুম থেকে আরেক রুমে পায়চারি
রান্নাঘর থেকে পানির জগ ভরে নেবার চেষ্টা
টেবিলে কাগজ পড়ে থাকে, কলমের অভাবে তোমাকে লেখা হয় না।
শ্রাবণ মাসে তুমি গ্রামের বাড়িতে গিয়ে
উঠানের কাদায় পা ডুবিয়ে গভীর রাতে ফোন করে যাচ্ছো
আর আমি নেটওয়ার্ক বিভ্রাটে কিছুই শুনতে পাচ্ছি না!
সত্য সত্যই কি আমার ষাটভাগ বাস্তবতার মাঝে
তুমি চল্লিশ ভাগ কল্পনা কোথাও আছো?
গত সপ্তাহে আমিও তো গিয়েছিলাম পাহাড়ে
তুমি ছিলে রাজধানীর বিছানায়
আমি যত আবেগে, সেই মধ্যরাতে
সাপের আলিঙ্গন আর ব্যাঙের পাহারায়
ঘরের বাইরে, নিরালায়
তোমাকে চেয়েছিলাম ফোনের ইশারায়
প্রায় সারারাত নিষিদ্ধ আগ্রহে
তোমাকে টেনে বের করেছিলাম
নির্ঘুম নীল রাতের পোষাকে।
আজ একি হলো
তুমি গেলে নীল যমুনার পাড়ে
যেখানে গ্রাম টাঙ্গাইলের শ্রাবণে
নৌকায় করে তোমাকে টানার কথা
সেখানে নাকি শুকনা খটখটে
নদীর বুকে ঘনঘটা নাই ঢেউয়ের
তুমি ফিরে এলে ঝগড়ার ছলনায়
পাশের ঘরে শাশুড়ির নাক ডাকা
জেগে থেকে পার করে দিলে নিশি ভোর
অথচ দেশে ফিরে এলো খুব ভোট
নির্বাচিত, পুরানো যত চোর
কিছুই বদলায় না, অন্তত বদমাস,
বদলায় শুধু আমাদের যা হবার কথা
আমরা যখন রাত জেগে থাকি শ্রাবণে
প্রেমের দেবতা রাস্তায় নামে মাগনে!
শ্রাবণ চলে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে
শ্রাবণ চলে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে
খোঁড়াখুঁড়ি করা রাস্তায়। হাঁটুপানি, গর্ত আর ছিটকানো কাদার ভয়ে
আমি তোমার আসার পথের দিকে
খালি পেটের কুকুরের মত পা দুটি ভাঁজ করে
সারাদিন অপেক্ষায় বসে থাকি
নিশ্চয়ই কোথাও তুমি বসে বসে হাসছো
নিশ্চয়ই তোমার চোখের তারায় ভাসছে কামনার সূক্ষ্ণ ঢেউ
শক্ত দিন গুলি আমাকে চেপে চেপে কষ্ট দিচ্ছে
সন্দেহের হূল ফোটাচ্ছে বন্ধুরা প্রতিনিয়ত
আর তাদের গুপ্তছুরির ভয়ে আমার ঘুম হারাম হয়ে যাচ্ছে
একটা ক্লান্তি এসে আমাকে শূন্য করে দিচ্ছে
সেই শূন্যতা আমাকে ফিরিয়ে নিতে চাইছে
নিজেকে পুড়িয়ে ফেলার দিকে
কিন্তু আজ আমি আর চাইনা কিছুতেই
তোমাকে ছাড়া কোন কালো মুখের দিন –
চলো পান করি
চলো আজ পান করি। চলো, চলো।
চোখের নিচে ঘাম ছলো ছলো।
আজ পান করি তোমাকে আবেগ, তোমার ছায়ার মূর্ছনা।
তুমি পাশে নাই তো কি হয়েছে, আজ তোমাকে ছাড়ছি না
রূপকথায় ঢুকে গিয়ে ছোট্ট কৌটায় করে তোমাকে আনবো
আজ সারা রাত তোমাকে পাশে বসিয়ে ছানবো
একটার পর একটা বাক্স খুলে খুলে
একটার পর একটা চেহারা আমি দেখছি খুঁজে থুঁজে
সামান্যতেই কি যে অসামান্যতা দেখা যায়
ছোট্ট পাখিই আমায় করেছে দিওয়ানা
সত্যি কথা কি তোমাকে বলবো?
আমার কাছে যে শেষ সত্যি বলে কিছু নাই
আমার কাছে যে তোমার সব রূপই কল্পনা
আমি যে তোমাকে পাশে কোনদিনই বসাবো না
চেয়ার টেনে বরং মুখোমুখি বসি
তোমাকে পড়িয়ে দেই আমার প্রিয় চাঁদ
পান করি তোমাকে আমার চোখের চুমুকে
তোমার চিবুক, রক্তে রাঙানো দুঠোঁট
আর কপালে, ভ্রুকুঞ্চন আর এক কালো ছোট টিপ
যাতে ঢিবঢিব করে বুক!
না না কি যে ভাবি, তুমি কেনো হারিয়ে যাবে আবার!
তুমি যে আমার সাগর খুঁজে পাওয়া মুক্তা।
না, না, তুমি আমার আশ্বিনের পদ্ম ফুলের মধু
বিষন্ন ভ্রমর আমি অকারনেই বিল আর হাওরে উড়ি।
তুমি আমার পাজামা পড়ে ঘুরছো!
কবিদের প্রতারিত করে নিজের চেহারার লোভে
ফটোগ্রাফারের পিছনে পিছনে যাচ্ছো না
সবুজ ধানখেতের ওপর মেঘ হতে চাওয়া রমনী তুমি
সারাক্ষণ রমণের অজস্র স্বপ্নের ভিতর থেকে
বেরিয়ে এসেছো তুমি আমার কামলোভী মনের বাইরে
তোমার মেঘের বৃষ্টি হোক বা না হোক
আশ্বিনে আমি তোমার কাশফুল চাই
সামনে আসছে কঠিন রোজার মাস, কিন্তু আমাকে তুমি
সিয়ামের পথে ডেকো না
সারা বছর আমি রোজা করেছি
এই একটি মাস তোমাকে পাবো বলে!
তুমি বলবে এ আমার বদমায়েসি
আমি চাই তোমাকে আরেকটু রোগা দেখতে এই রমজানে
ঠিক আছে তাই হবে
আমার এই অবিশ্বাসী মন, তোমার বিশ্বাসের অবরোধে
আজ স্বস্ত্বি পাবে
তুমি তো জানো স্বগের্র লোভে আমার মন দোলে না
আমি চাই তোমাকে পার্থিব আয়োজনে
তুমি যতো আমার অবিশ্বাসী মনে
সংক্ষেপে চাও নিয়ন্ত্রণের দায়
আমি মনে ভাবি, ৩/৫ ভাগ ছোট তুমি
চাইবেই তো আমার নিরাময়
কিন্তু আমি যে ‘পাগলা আধূনিকের’ পরের
আমার নাই যে কোন সাত্রের্র দায়
কাল মার্কসের হিসাব গিয়েছে পুরানায়
আমি নাচি মন মদনের বাহানায়
আমার এমন অবিশ্বাসী জমানায়
পুরানা দিনের বিশ্বাসীর মনও হারায়
আমি চাই, যেন ক্ষমতাহীন বুড়াটি
খুঁজে পায় তার চিন্তা করার স্বাধীনতা!
আবার একটা চমক, আগস্টে
আবার একটা চমক। আবার একটা রহস্যের দরজা খুলে তুমি বেরিয়ে এলে
আর বললে কিনা এটা কি আমাকে হারিয়ে ফেলার জন্য যথেষ্ঠ না
এদিকে তোমাদের বিল্ডিংয়ের অনেক আদরের দারোয়ান কবে যেন কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছিল
গতকালই তার মৃত্যু হলো জলাতংকে আর তোমার মেয়েটি আতংকে সারারাত ঘুমাতে পারেনি
আজ সন্ধ্যা থেকেই ও বিষন্ন, আজ সারা বিকাল থেকেই ওর বমি বমি লাগছে
তোমার ঘর দেখা হলো, তোমার বেসিন দেখা হলো আজ
আতংক আর ম্রিয়মানতার মধ্যে
একটা ছোট্ট চার দেয়াল বন্দি সবুজ পরিবার
ধূলায় আর হৈ চৈ করা রিকসাভর্তি রাস্তার পাশে
করুণ আতিথেয়তার সাথে স্বাক্ষাৎ হলো।
তুমি একটা ফোমের হরিণ ঝুলিয়ে রেখেছ তোমার ঘরে
বন্দি চীনা পাখি ডেকে উঠল তোমার সেলফোনে
তোমার নিজস্ব সাক্ষাৎকার দেখা হলো আজ
তোমার গন্ডি দেখা হলো
তোমাকে দেখা হলো না
সোর্সঃ কীর্তিকলাপ ওয়েবম্যাগ