অনুসন্ধান..

শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০১৫

রুহুল মাহফুজ জয়ের কবিতা

মৃতদের ভাষা

৩.
সরাসরি বেহেশতের পথে পা বাড়ানোর আগে
উল্কাপিণ্ডের মতো কথা খসে
নিমিষেই তৈরি হলো ব্ল্যাকহোল

আমরা দুটি সার্কাসে রেখে এলাম মুখের দুইভাগ
একপাশ প্রকাশ্যে রেখে অন্যপাশ করলাম গোপন
একটা মুখ জীবন বললে অন্যটা বললো মরণ

বেহেশতে যাবার পর আমরা বুঝলাম
মশায়দের থুথুর সঙ্গে সৌরজগৎ ছিটকে যায়!

৪.
মৃত্যুকে সাঁতার শেখানো যেতে পারে, মৃত্যুকে সাঁতার শেখালে আয়লান বেঁচে যায়। আদর করে কাছে ডেকে মৃত্যুকে ভিডিও গেম খেলা শেখাতে পার। গালে হাত বুলিয়ে ওকে বলতে পার—গুলি বা পদলেহন—কোন হত্যাই জায়েজ না। মৃত্যুকে দুধে-ভাতে পালক নিয়ে বড় করতে করতে আশীর্বাদ দিয়ে বল—বেঁচে থাক বাবা! তুই মরে গেলে ঈশ্বর নারায হবেন।

মৃত্যু খুব ভাল ছেলে। আজরাইল ফেরেশতার ভাষা ছাড়া অন্যকিছু শেখেনি। মানুষ আজকাল ওকে বিশ্রামের সুযোগ দিচ্ছে না,মাবুদের ফেরেশতা এখন ক্লান্ত। মৃত্যুকে পোষ্য নিতে কেউ রাজী আছো?

৫.
জোছনালোকের এত ধার—তীক্ষ্ন ব্লেডের মতো কেটে নিচ্ছে সংক্ষুব্দ রাত্রির লাজ।  বারান্দায় দাঁড়ায়ে হাত বাড়ালাম, ঈষৎ বিভ্রান্তি হাই-ফাইভ করে গেলো। উপ্রে তাকালাম চন্দ্র চোখ টিপ মারলো! কোন এক জীবনে এমনতর চন্দ্ররূপ দেখে আমি মূর্চ্ছা যেতাম। আর বলতাম, আই লাভ্যু জোছনা! পৃথিবীর সকল বেদের মেয়ে তখন অঞ্জু ঘোষের মতো নাচতে আরম্ভ করতো। সর্পবংশী কে বাজাতো, কে যে বাজাতো সেই বাঁশী—জানা হলো না। বংশীবাদকের সাথে আমার কোন শত্রুতা নাই,  ঈর্ষা আছে। সেইসব ঈর্ষা মধুপূর্ণিমায় চন্দ্রালোর রূপ ধরে তোমাদের নিচ্ছে ভাসায়ে; আর আমি দেখছি আলোকরশ্মির ভেতর থেকে পৃথিবীতে ঢেলে দেয়া হচ্ছে কথাপুঞ্জ, হাহাকার।



ইন্ডিয়ান এম্বাসিতে

পাশে বসে চার-পাঁচটা হরিণ
গুলি করে মারলো
বছর কুড়ির এক মেয়ে

অমন অহংয়ের আঙুল
স্পর্শ করলে
হরিণের মতো যে কেউ
অবলীলায় মরে যেতে পারে



মথভঙ্গিতে

একটা মথ ল্যাপটপে
একটা মথ ল্যাপটপের স্ক্রিনে বসে আলো খাচ্ছে মগ্ন পাখা মেলে
এরকম মথ তুমি
মথের আলোচোষা ভঙ্গিতে আমার শরীর থেকে শুষে নিতে পার মধু ও বন

ভজনে অতিরশ্মি
অতিরশ্মির অধিক ভজনে পতঙ্গের পতন, ওড়ার ক্ষমতা লোভ

রতিন্মুখ, পতন
আমার দিকে তোমার পতন সামান্য পতঙ্গের অধিক ভাবতে পার রতিন্মুখ
আলোর দিকে মথভঙ্গিতে তোমা-আমা দিকে তাকায়ে থাকি লোলুপ, পরস্পর