অনুসন্ধান..

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০১৫

আহমেদ স্বপন মাহমুদের গুচ্ছকবিতা

আমার কেহ নাই


আমার কেহ নাই। সর্বস্ব, সর্বংসহা, আমার সর্বহারা; সকলি আমার।
এই পৃষ্ঠদেশ, লঘু স্বর, গুরুবিদ্যা, ভাব ও সকল উপাচার।
নাসিকারন্ধ্রের ঘ্রাণ, তোমার রূপদেহ, সন্দেহসহ আরো অনাচার
হাসি ও তামাশা, তমসাঘেরা মনদেহ, চক্ষুদ্বয়, দৃষ্ট্রিভ্রম, যথাচার
প্রেম ও ভণিতা, সরস সারসের পাখ, পাখালি ও উড়াল, শূন্যতার
বেগ, প্রাণের আবেগ, শ্লীল-অশ্লীল আরো যা যা অব্যক্ত বাসনার
আগুন, আন্ধার, চাওয়া-না চাওয়া ফল, হারানো রতন, মনোভার
আমার কেহ নাই। কারো কেউ নাই, সর্বস্বখোয়া সন্ধ্যায়, ভোরে দুপুরে
রোদে ঝড়ে ওড়ে ওড়ে ক্লান্ত ডানার আড়ালে বিষাদের তিলকের পাড়ে
যে মুখ লুকিয়ে থাকে, খেলা করে, আমি দেখি নাই। আমারে সেসবে পাই
ঝরাক্ষেত, জলের ভাসান, আনচান কারো মনে, আগুনে দ্বিগুণে অপরে
নিজেরে লুকিয়ে বেড়াই।
সর্বস্ব, সর্বংসহা, সর্বহারা সকলি আমার, পৃষ্ঠদেশ, গুরুচরণ
নয়নতিলক, কেহ নাই যারে ভাব করি, হাসাই। তামাশা করি।

রাতের গল্প


তোমাদের রাতের গল্প বলি
রাত খুব প্রিয়
রাত হলে তোমাদের মুখগুলো চেনা যায় না
এতে আমার মদ খেতে ইচ্ছা করে
মদ খেলে
তোমাদের লৌকিক মুখোশ
টিকটিকির লেজের মতো
খসে পড়ে
আমার আনন্দ হয়
অন্ধকারে তোমাদের মুখ
দেখতে পাই বলে।

তুমি আমি হও


তুমি হও। ভূমি হও তুমি।
নারী ও প্রকৃতি হও।
আমি বাহির, অস্থিতি, ঘোড়সওয়ার।
তীর, তীরন্দাজ আমি।
দূর যাত্রা করি। তুমি চেয়ে দেখ।
কোথাও কিছু নাই দেখ।
কিছু দেখ নাই তুমি।
না প্রেম ও বিকার
উদ্গতি, না-বিনাশ।
তুমি আমি হও। হারাও।
ফেনায়, জলে ও ভূমিতে
গুল্ম হও, লতাপাতাডাল হও
উচ্ছ্বাস ও প্রতীক্ষা হও।
খুন হও, খুনী; আঁধার ও আলেয়া হও
আলোহীন তুমি, আলো হও
শূন্য হও, হারাও।
আমি হও তুমি। আমি না-হই
না-সৃষ্টি ও পরিণতি, না-মৃত্যু
হও তুমি। পূর্ণ পরম হও।
মরম হও। হারাও।

শূন্যতা


একটা শূন্যতার দিকে যেতে যেতে কিছুই ভাবতে পারছিলাম না আমি।
না তোমার মুখ, না সূর্য, না-কিছু টের পাচ্ছিলাম তমসাঘেরা তরলসন্ধ্যায়।
না স্মৃতি ও সম্ভাবনা, না হিরন্ময় মদ, না তলানি কিছু মনে আছে
না কাহিনি, না হিংসার মুখ, না বন্ধুর ইর্ষাপরায়নতা কিছু জানা আছে।
বরং প্রতিহিংসার সকালে শুনি তোমাদের মুখে মুখে ফেনায়িত বার্তা।
রাতের ঈর্ষার কাছে আমি সব ভুলে আপন স্বভাবে হেরে গিয়েছিলাম।
ওই দূরে ধূর্ত শেয়ালের গল্প ভেসে বেড়াচ্ছে সিংহের কানে।
ওই দূরে কয়েকটা সন্ধ্যার ইঁদুর লাফাতে লাফাতে মরে যাচ্ছে।
একটা শূন্যতার দিকে যেতে যেতে পূর্ণ পরমে
আমি ভুলে গিয়েছি অতিতুচ্ছ উন্মত্ত রাতের কাহিনি।

সকাল থেকে হাসি


সকাল থেকে হাসি পর্যন্ত হেঁটে গেলাম আমরা।
কোথাও পৌঁছানোর আগেই রক্তনীল ভূবনডাঙা, রোদনসায়র
হেসে উঠছে আমাদের ছায়ার সাথে।
আমাদের পিছু নিয়েছে চোখ ও কতিপয় মনস্তাপ
হ্যালুসিনেশন, উদ্ভ্রান্তি ও নিদ্রাহীনতা
একাকী স্টেশন
মায়াবর্তী ওয়াগন–
আমরা বরফ পেরিয়ে যাচ্ছি
দৃশ্য চলে যাচ্ছে অামাদের রেখে
পাহাড়, আগুন, সমতট–
বুক খালি করা হাহাকার হয়ে
ট্রেন আসে আর যায়;
অতিতুচ্ছ বাসনার সমীপে
শূন্যতার সমান গাঢ় বেদনায়
সে অবলম্বন চায়;
রাত থেকে কান্না পর্যন্ত হেঁটে যাচ্ছি আমরা।
কোথাও পৌঁছানোর আগেই একবার তাকিয়ে
চোখ মুছে সে চলে যায়;
স্টেশন দাঁড়িয়ে থাকে, একা।

*
সোর্সঃ কীর্তিকলাপ ওয়েবম্যাগ