অনুসন্ধান..

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০১৫

ফিরোজ এহতেশামের গুচ্ছকবিতা

মর্মাহত প্রবালের পাশে

একদা তো ব্যক্তিগত প্রাণ ছিল, হায়
প্রিয় ঢেউ লেগে চলে গেছে সেই প্রাণে
ফেরে নাই কখনও সে। তারই অপেক্ষায়
পাথর হয়েছে কেন প্রবালেরা জানে
তীরে এসে দাঁড়িয়েছ নিজস্ব ভঙ্গিতে
রাতের হৃদয় কাঁপে তরঙ্গের তালে
বেজে ওঠে পূর্ণিমায় বিরহ সংগীতে
সেই প্রেম অস্মীভূত প্রবালে প্রবালে
ছুঁড়ে ফেলে দিতে গিয়ে আরও আঁকড়ে ধরে
আজও কেন দ্বিধান্বিত সমুদ্র-সকাশে?
কত অশ্রু জমা রেখে বুকের ভিতরে
উথলে ওঠো মর্মাহত প্রবালের পাশে?
তোমাকে বিদীর্ণ করে ফুটে ওঠা ফুল
ধারণ করেছে কোনো পাথরের গান
স্মৃতিকে উসকে দিতে হাওয়া অনুকূল
এখনও কি জেগে আছি তোমাতে অম্লান?

ডাকো

তোমার সর্বগ্রাসী রূপ আমাকে সহ্য করতে হয়।
প্রকাশ্যে আঘাত করি কিন্তু
হৃদয়ের ভালোবাসা যায় না আমার
সাবলীল আকর্ষণে টেনে নাও, পরক্ষণে ছুঁড়ে দাও অবহেলা ভরে
সরে যাও, ফিরে আসো সহজে আবার
গ্রহণ আর বর্জনের এই লীলা ছাপ রাখে বালুর ওপরে
আমিও তো ফিরে যাব
তোমার কটাক্ষ থেকে দূরে
জানি
তোমাকে স্মরণ করে ছলাচ্ছল করে উঠবে বুকের ভিতর
অপেক্ষায় আছি সাড়া দিতে
হে সমুদ্র,
গর্জন করো,
ডাকো।

আর কোনো সংশয় নাই

আর কোনো সংশয় নাই
চারিদিকে নীল জলরাশি
তোমার যতটা রোশনাই
তত বুকে বেজে ওঠে বাঁশি
সুন্দর স্তনের মতো ফুলে
ফেঁপে উঠে আসে ঢেউগুলো
তোমার স্মৃতিতে উঠি দুলে
কালো চোখ আর কালো চুলও
আমাকে ঝাপটা মারে এসে
কোন ঢেউ কে বলতে পারে!
তুমি কি এখন মৃদু হেসে
দাঁড়িয়েছে খাদের কিনারে?
পাথরে নুড়িতে ঠোকাঠুকি
বালুর ওপরে কিছু লেখা
তাইতে তোমার দিকে ঝুঁকি
ডাঙ্গা ও পানির ভেদরেখা
অনির্ণেয়, প্রেম আর ক্রোধ
একক আধারে মিশে আছে
সমস্ত ঠুনকো অবরোধ
ভেসে যায়, ঢেউয়ে ঢেউয়ে, নাচে
একাকী জাহাজ দেখি দূরে
আত্মমগ্ন, কুয়াশা-মলিন
আনন্দ-যাতনার সুরে
রাতে বাজে গুঢ় ম্যান্ডোলিন
তোমার বিরহ বয়ে এনে
কেঁদে ফেরে মাস্তুলের হাওয়া
প্রকৃত সাঁতার না-ই জেনে
হবে কি তোমার কাছে যাওয়া!
মহাজাগতিক কোনো ভুলে
অপার্থিব গন্ধ ভেসে আসে
তুমি কি খোঁপার চুল খুলে
উড়িয়েছ আমার বাতাসে?
তোমার সামনে তবু ক্ষুদ্র
তুচ্ছেরও আত্মসম্মান জাগে
আমি তো প্রস্তুত, হে সমুদ্র
ডাক দিও, যদি একা লাগে

কুয়াশা

ঝাপসা হয়ে আসে ধীরে ধীরে সকল সম্পর্ক আমাদের!
শূন্যে জ্বলে থাকে বিস্মৃতপ্রায় আলো-
অসহায়, কুন্ঠিত, আত্মকেন্দ্রিক
তার-ই নিচে আধা-জাগ্রত কবেকার মৃদু-পানশালা।
ঘোরগ্রস্ত শব্দ শোনা যায়।
অনেক হেমন্ত শেষে পাশাপাশি
কেমন আড়ষ্ট হয়ে বসে আছি বর্তমানে, আমরা সবাই
আগুনকে ঘিরে ফেলি। আমাদের কোনো নাম নাই।
আমাদের বাক্যগুলো কোনো অর্থ পাবার আগেই
পরিণত হচ্ছে কুয়াশায়।

বসন্তে

সকল ঋতুতে মোবাইল ফোনে কোকিল কন্ঠ বাজে
আহারে আমার মন তো লাগে না কাজে
বেজে ওঠে বিশেষ বাঁশিটা
মহাকাশে, এইমাত্র জন্ম নেওয়া নক্ষত্রের সাথে
কিভাবে সম্পর্ক বজায় রাখে জমিনে অঙ্কুরিত বীজ
সেই কথা ভাবি ভেবে কূলই তো পাই না আমি মরা যমুনায়
বয়ে যাচ্ছে বিরহ বহনকারী বসন্ত-বাতাস
ফলে, বাঁশি হাতে বসে আছি আবার কখন
বিশেষ নির্দেশ আসে, বাজাবার
বাজে!
কীসব ঘটিত হচ্ছে উলুপটকা-মুন্ডু-মাথা-নজিরবিহীন
এই দেশে, অন্য কোনো দেশে
তবু অসহ্যরকম বাজে। বেজে ওঠে বিশেষ বাঁশিটা
শুধু কেন দূরের ইঙ্গিতে?
ইঙ্গিতই নির্দেশনা নাকি নির্দেশই সাংকেতিক? স্বয়ংক্রিয়, নিজে নিজে?
সংকেত? খুঁজে দেখলে তাও পাওয়া যেতে পারে নক্ষত্র কিংবা বীজে
বীজে
বীজের ভিতরে, দূরদর্শী মন নিয়ে কান পেতে শোনো
পাতা ও পত্রের ফাঁকে বেজে যাচ্ছে চোরাগোপ্তা অনন্ত-কোকিল
আহা, আজি এ বসন্তে নক্ষত্রের কথা আর নাই-বা বললাম

*
সোর্সঃ কীর্তিকলাপ ওয়েবম্যাগ